ভারতের সঙ্গে রাজনৈতিক উত্তাপের প্রভাব ক্রিকেট অঙ্গনেও পড়ছে। সম্প্রতি মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনার পর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সম্ভাব্য বিষয় আইসিসিকে জানানো হয়েছে—এমন আলোচনা চলছিল। তবে এই অশান্তির মধ্যেই আজ বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব–১৯ দল তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করছে।
টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশ সময় বেলা ১টায় জিম্বাবুয়ের বুলাওয়েতে ভারতের অনূর্ধ্ব–১৯ দলের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।
ভারত–বাংলাদেশ ক্রিকেট বৈরিতা নতুন নয়। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নো–বল বিতর্কের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে উত্তাপ বেড়েছে। বড় মঞ্চে জাতীয় দলের সাফল্য সীমিত হলেও যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অর্জন উজ্জ্বল। ২০২০ সালে যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জয় করে বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের অনূর্ধ্ব–১৯ এশিয়া কাপের ফাইনালেও ভারতের বিপক্ষে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশের যুবারা।
এই দলেই এবার অংশ নিচ্ছে আজিজুল হাকিমের নেতৃত্বাধীন ক্রিকেটাররা। তবে বিশ্বকাপে প্রস্তুতি পুরোপুরি সুখকর হয়নি। বৃষ্টির কারণে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচের একটি মাঠেই গড়ায়নি, অন্যটিতেও বাধার সম্মুখীন হয়েছে দল। কোচ নাভিদ নেওয়াজ কিছুটা আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন এই বিষয় নিয়ে।
ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে পাঠানো ভিডিও বার্তায় কোচ নাভিদ নেওয়াজ বলেন,
“কাদের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলব, সেটা কোনো বড় বিষয় নয়। আমরা প্রস্তুতি ম্যাচে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছি। প্রতিপক্ষের কথা নিয়ে আমাদের কোনো চিন্তা নেই। মোটামুটি ভালো প্রস্তুতি হয়েছে, তবে আবহাওয়া বা কিছু বিষয় আছে, যেগুলো আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। আমরা সেগুলো নিয়ে চিন্তা করছি না।”
ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের পর ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–১৯ দল নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র অনূর্ধ্ব–১৯ দলের বিপক্ষে খেলবে। ম্যাচ দুটি যথাক্রমে ২০ ও ২৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।
মোট ১৬টি দলকে চারটি গ্রুপে ভাগ করে অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপ আয়োজন করা হচ্ছে। প্রতিটি গ্রুপ থেকে তিনটি দল সুপার সিক্সে উঠবে। সুপার সিক্স পর্বে দুটি গ্রুপে ছয়টি করে দল খেলবে এবং এর পর সেরা চার দল সেমিফাইনালে জায়গা পাবে।
বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব–১৯ দল এ বছর ভারতের বিপক্ষে জয় দিয়ে শুরু করতে চাইছে এবং আগের সাফল্যের স্মৃতি উজ্জ্বল রেখে টুর্নামেন্টে নিজের অবস্থান মজবুত করতে চাইছে।

