জাবেদ শেখ,শরীয়তপুর প্রতিনিধি:
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আওতায় ইলিশ সম্পদ রক্ষা ও টেকসই ব্যবস্থাপনা জোরদারে ইউনিয়নভিত্তিক সচেতনতা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তরাধীন ‘ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (২য় সংশোধিত)’ এর অংশ হিসেবে সোমবার (৩ মার্চ) চরসেনসাস ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে এ সভা আয়োজন করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন চরসেনসাস ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল খায়ের। প্রধান অতিথি ছিলেন ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভেদরগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ইমরান। বাস্তবায়ন করে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়, ভেদরগঞ্জ, শরীয়তপুর। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ ও স্থানীয় জেলেরা অংশ নেন।
সভায় বক্তারা বলেন, দেশের জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষায় জাটকা সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাটকা ধরা বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে ইলিশ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যা জেলে পরিবারসহ জাতীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাই নির্ধারিত সময় ও অভয়াশ্রম এলাকায় মাছ ধরা থেকে বিরত থাকার জন্য জেলেদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
উপজেলায় মোট নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ২ হাজার ৪০ জন। এর মধ্যে ১ হাজার ২০ জন কার্ডধারী। শতভাগ কার্ড সুবিধা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট জেলেদের তথ্য হালনাগাদ ও যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়। বক্তারা বলেন, প্রকৃত জেলেরা যাতে সরকারি সহায়তা পান এবং কেউ যাতে অনিয়মের মাধ্যমে সুবিধা নিতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজুল হক বলেন, ইলিশ আমাদের জাতীয় ঐতিহ্য ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আইন মেনে চললে জেলেদের দীর্ঘমেয়াদে লাভ হবে। সরকার জেলে পরিবারের পাশে আছে, তবে নিয়ম ভঙ্গ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভায় মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ইমরান জাটকা সংরক্ষণের বৈজ্ঞানিক দিক তুলে ধরে বলেন, ছোট ইলিশ বেড়ে পূর্ণাঙ্গ হলে উৎপাদন কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়। তাই স্বল্পমেয়াদি লাভের আশায় জাটকা নিধন না করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিস্তারিত আলোচনা শেষে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক বক্তব্যও দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, মাদক শুধু ব্যক্তি নয়, পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে। জেলে সম্প্রদায়ের তরুণদের মাদক থেকে দূরে রেখে বিকল্প কর্মসংস্থান ও সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আয়োজকরা জানান, ইলিশ অভয়াশ্রম এলাকায় নিয়মিত নজরদারি ও সচেতনতা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে, যাতে জাটকা সংরক্ষণ নিশ্চিত করে টেকসই ইলিশ উৎপাদন সম্ভব হয়।

