অস্ট্রেলিয়া সফরে থাকা বাংলাদেশের বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা বাতিল করেছে দেশটির সরকার। সিডনি বিমানবন্দর দিয়ে দেশ ত্যাগের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় এই খবরটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়। এর আগে একই অভিযোগে আরেক জনপ্রিয় বক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারিকেও অস্ট্রেলিয়া ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল।
অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী ম্যাট থিসলেথওয়েট এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অস্ট্রেলিয়া সরকার ইহুদিবিদ্বেষী বা ইসলামোফোবিক (ধর্মবিদ্বেষী) বক্তব্য প্রদানকারীদের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে। অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যম ‘ডেইলি টেলিগ্রাফ’-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, শায়খ আহমাদুল্লাহ অতীতে ইহুদিদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেছিলেন এবং বিশ্বব্যাপী অস্থিরতার জন্য তাঁদের দায়ী করেছিলেন।
ইসলামিক প্র্যাকটিস অ্যান্ড ডিজাইন সেন্টার (আইপিডিসি)-এর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘লিগ্যাসি অব ফেইথ’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া সফরে যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। মেলবোর্ন থেকে শুরু হওয়া এই সফরে তাঁর সিডনি, ক্যানবেরা, অ্যাডিলেড এবং পার্থে ধারাবাহিক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল।
ভিসা বাতিলের ফলে শায়খ আহমাদুল্লাহর আগামী দিনগুলোর নির্ধারিত সকল কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে:
৬ এপ্রিল: ক্যানবেরার ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার।
১০ এপ্রিল: অ্যাডিলেডের উডভিল টাউন হল।
১১ এপ্রিল: পার্থের সমাপনী অনুষ্ঠান।
মিজানুর রহমান আজহারির পর শায়খ আহমাদুল্লাহর সাথে এমন আচরণে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের একাংশের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে অস্ট্রেলিয়া সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতেই এই কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

