নরসিংদী প্রতিনিধি:
নরসিংদীর চর হাজীপুর এলাকায় আদালতের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সংখ্যালঘু একটি পরিবারের পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ মার্চ ভোররাতে সদর উপজেলার চর হাজীপুর খাসেরচর গ্রাম সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মো. মোশারফ (৪৫) অভিযোগ করেন, একই এলাকার আবুল মিয়া (৬১), কবির মিয়া (৫৩), কাজল মিয়া (৪৯), কামাল মিয়া (৪৮)সহ আরও কয়েকজন পরিকল্পিতভাবে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে তার জমিতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে। তারা জমি থেকে মাটি কেটে ইট দিয়ে ঘেরাও করে দেয়াল নির্মাণের মাধ্যমে দখল নেয়।
মৌজা চর-হাজীপুরের সি.এস খতিয়ান ১৭ নং, এস.এ খতিয়ান ২৯ ও ৩০ নং এবং আর.এস খতিয়ান ৮৯ নং অনুযায়ী উক্ত জমির মালিকানা ও রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে। আর.এস খতিয়ান নং ৮৯ অনুযায়ী দাগ নং ৪৩৮, ৪৪২, ৪৬৪, ৪৭১ ও ৪৮২-এ বিভিন্ন পরিমাণ নাল জমি এবং দাগ নং ৪৬৬-এ বসতবাড়ির জমি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এস.এ খতিয়ান থেকে আর.এস খতিয়ানে রূপান্তরের ক্ষেত্রে দেখা যায়, পূর্বের বড় দাগসমূহ থেকে নির্দিষ্ট অংশ বিভাজন হয়ে বর্তমান আর.এস দাগসমূহে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এতে জমির মালিকানা ধারাবাহিকভাবে হালনাগাদ হয়ে আর.এস খতিয়ান ৮৯ নম্বরে সংরক্ষিত রয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, মোট জমির মাত্র ৩৮ শতাংশ খারিজ হওয়ার পরও অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে অবশিষ্ট জমি দখলের চেষ্টা চালিয়েছে, যা আদালতের নির্দেশের সরাসরি লঙ্ঘন।
ভুক্তভোগী জানান, সি.এস, এস.এ ও আর.এস রেকর্ড অনুযায়ী জমিটি তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি এবং যথাযথ নামজারি তার নামে রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, জমি দখলের পাশাপাশি তাকে ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং আদালতে ১৪৫ ধারায় মামলা করেছেন।
অন্যদিকে অভিযুক্তরা অভিযোগ আংশিক স্বীকার করে জানিয়েছেন, তারা নিজেদের জায়গায় প্রয়োজন অনুযায়ী বাউন্ডারি নির্মাণ করেছেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি তারা।
জানা গেছে, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে গত ২২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে আদালত উক্ত সম্পত্তির ওপর ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারা জারি করে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করেই রাতের আঁধারে নির্মাণকাজ চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নরসিংদী সদর মডেল থানার এসআই আবুল কালাম আজাদ বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।” তিনি প্রাথমিকভাবে এটিকে আদালতের নির্দেশ অমান্যের ঘটনা বলেও উল্লেখ করেন।
উল্লেখ, জমি দখলকারিগণ একটি হত্যামামলার আসামি এবং পুলিশ প্রসাশনে কাজ করেন একজন। তার প্রভাবেই এমন ন্যাক্কারজনক কাজ করতে সাহস পাচ্ছে তারা; সেই তাদেরকে উস্কে দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড আইনের শাসনের প্রতি চরম অবজ্ঞা এবং সংখ্যালঘু পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এ ঘটনায় দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।

