ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ) নিশ্চিত করেছে যে তারা ইরানের রাজধানী তেহরানের কয়েকটি তেল মজুদ কমপ্লেক্সে হামলা চালিয়েছে। হামলার পর শহরের আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। আইডিএফ জানিয়েছে, এটি জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংকগুলোর ওপর চালানো একটি ‘উল্লেখযোগ্য হামলা’, কারণ তারা দাবি করে, এই ট্যাংকগুলো সরাসরি ও নিয়মিতভাবে সামরিক কার্যক্রমের জন্য ব্যবহার করা হয়।
একই সময়, লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈরুতের একটি হোটেলে ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ৪ জন নিহত এবং আরও ১০ জন আহত হয়েছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই হোটেলে দক্ষিণ লেবানন ও বৈরুতের দক্ষিণ উপশহর থেকে যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত হওয়া মানুষরা আশ্রয় নিয়েছিলেন। হামলার পর ভবনটি খালি করতে দেখা গেছে, কারণ আবারও আক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে।
আইডিএফ টেলিগ্রামে জানিয়েছে যে তারা একটি নির্দিষ্ট হামলা চালিয়েছে, যার লক্ষ্য ছিল ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের লেবানন কোরের গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডাররা। চলতি সপ্তাহের শুরুতে আইডিএফ দাবি করেছে, তারা কুদস ফোর্সের অস্থায়ী কমান্ডার দাউদ আলিজাদেহকে হত্যা করেছে। আইডিএফের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, তারা যেকোনো স্থানে কাজ করা ইরানি ‘সন্ত্রাসী শাসনের’ কমান্ডারদের লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট অভিযান চালাতে থাকবে।
তবে হামলার সঠিক স্থান নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি এবং ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য আসেনি। একই সময়ে আইডিএফ বৈরুতের দাহিয়েহ এলাকায় হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে আরও এক দফা হামলা চালাচ্ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি চান না কুর্দিরা সরাসরি যুদ্ধে জড়াক। তিনি জানিয়েছেন, “আমরা চাই না যুদ্ধ আরও জটিল হয়ে উঠুক। কুর্দিরা যুদ্ধে নামতে প্রস্তুত, কিন্তু আমি চাই না তারা এতে জড়াক।” অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী অনেক কুর্দি যোদ্ধাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছিল ইসলামিক স্টেট (আইএস) এর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য।
ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্যের বিমানবাহী রণতরী প্রেরণের প্রস্তাবের জন্য তিনি কৃতজ্ঞ, তবে আপাতত তাদের প্রয়োজন নেই। তিনি বলেছেন, “ধন্যবাদ, কিন্তু এখনই এর দরকার নেই।” অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্র এই মুহূর্তে তাদের নিজস্ব সামরিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে ট্রাম্প বলেন, তিনি চান ইরানের জন্য এমন একজন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হোক, যিনি দেশটিকে যুদ্ধে নিয়ে যাবে না। তিনি ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ নিয়ে মন্তব্য করে বলেন, এতে বোঝায় ইরান সামরিকভাবে অকার্যকর হয়ে যাওয়া, কিন্তু ইরান দাবি করেছে তারা কখনো আত্মসমর্পণ করবে না। তেলের বাজার নিয়েও ট্রাম্পের মতামত, দাম প্রথমে বাড়বে, কিন্তু পরে দ্রুত কমে যাবে। এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে, যেখানে ইরান, ইসরায়েল ও লেবাননের ভূখণ্ড জড়িত, এবং যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক ও সামরিকভাবে সরাসরি যুক্ত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।

