বাকেরগঞ্জের ১৪ নং নিয়ামতি ইউনিয়ন পরিষদের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরের উপর মব সৃষ্টি করে হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গন সহ সর্ব মহলে নিন্দার ঝড় উঠছে।
৯ মার্চ সোমবার দুপুর ১ টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদ চলাকালীন সময় সরকারি ভিজিডির চাল আত্ম্যসাৎের অভিযোগ তুলে চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরের উপর নিয়ামতি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে হামলা ও বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
কিছু ক্ষনের মধ্যেই চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরের ওপর হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক অঙ্গন সহ সর্ব মহলে নিন্দার ঝড় উঠে।
তাৎক্ষণিক ঘটনাটি বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ পরিষদে চাল আত্মসাৎ ঘটনায় একটি তদন্ত টিম পাঠায়। এবং তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।
তদন্ত করতে আসা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা খান শামীম পারভেজ বলেন, নিয়ামতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ূন কবিরের বিরুদ্ধে চাল আত্মসাৎ এর প্রাথমিক কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে আমাদের উপস্থিতিতেই এই হামলার ঘটনা হয়েছে বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।
চেয়ারম্যান হুমায়ূন কবির বরিশাল জেলা ইসলামী আন্দোলনের সদস্য পদে রয়েছেন। ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। দলের বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক উপাধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম এক বিবৃতিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
এই ঘটনায় বাকেরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কামরুজ্জামান মিজান মিয়া জানান, নিয়ামতি ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ূন কবিরের উপর হামলার খবর শুনেছি এবং এরকম কাজ খুবই নিন্দনীয় । এ বিষয়ে দলের নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নিয়ামতি ইউনিয়নের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল সিকদার জানান, চেয়ারম্যান এর বিরুদ্ধে চাল আত্মসাৎ এর খবর পেয়ে তদন্ত করতে পরিষদে এসেছি। তবে হঠাৎ করে এরকম হামলার ঘটনা ঘটবে বুঝতে পারিনি।
এই ঘটনায় বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও রুমানা আফরোজ জানান, চাল আত্মসাৎ এর অভিযোগ এনে ইউপি চেয়ারম্যানের উপর হামলার একটি ভিডিও দেখেছি। এই ঘটনা একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তিন কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি খন্দকার সোহেল রানা বলেন, হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

