ভারতের পশ্চিমবঙ্গে লাভলি খাতুন নামে এক নারী পঞ্চায়েত প্রধানকে বাংলাদেশি নাগরিক হওয়ার অভিযোগে পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানায়, ভুয়া নথি ব্যবহার করে ভারতীয় নাগরিকত্ব নেওয়ার অভিযোগে তার ওবিসি সার্টিফিকেটও বাতিল করা হয়।
সোমবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর রসিদাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান লাভলি খাতুনকে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, লাভলি খাতুনের আসল নাম নাসিয়া শেখ এবং তিনি বাংলাদেশি নাগরিক। অভিযোগ রয়েছে, ২০১৫ সালে তিনি ভারতের ভোটার তালিকায় নাম তোলেন এবং পরে ভুয়া জন্মসনদ তৈরি করে ভারতীয় নাগরিকত্ব দাবি করেন।
এর আগে, মালদার এক পরাজিত প্রার্থী কলকাতা হাইকোর্টে লাভলির নাগরিকত্ব চ্যালেঞ্জ করে মামলা করেন। আদালত মহকুমা প্রশাসনকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেয়। তদন্ত শেষে ২৯ জানুয়ারি লাভলির ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিল করা হয় এবং এখন তাকে পঞ্চায়েত প্রধানের পদ থেকেও সরানো হলো।
অপরাধের বিষয়ে পুলিশ এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নিয়েছে কিনা, তা স্পষ্ট নয়। তবে স্থানীয়রা বলছেন, ২০১৮ সালে ভুয়া জন্মসনদ তৈরি করে এবং শেখ মুস্তাফা নামে এক ব্যক্তিকে বাবা পরিচয় দিয়ে লাভলি খাতুন ভারতীয় নাগরিকত্ব দাবি করেন।এ বিষয়ে লাভলি খাতুনের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিনি ভারতে অনুপ্রবেশ করেন।তবে তৃণমূলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।
প্রশাসন বলছে, এ ধরনের ভুয়া নাগরিকত্ব দাবি করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আরও তদন্ত চালানো হবে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।