বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের এই সময়ে দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে আরও ৫ হাজার টন ডিজেল আমদানি শুরু হয়েছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ ২০২৬) এই জ্বালানি দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোর সংরক্ষণাগারে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
পার্বতীপুর ডিপো সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার বিকেল থেকেই আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল পাম্পিং শুরু হয়েছে। প্রায় ৬০ ঘণ্টার নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম শেষে এটি গন্তব্যে পৌঁছাবে। এর আগে গত ১৩ মার্চ প্রথম দফায় ৫ হাজার টন ডিজেল এসে পৌঁছেছিল।
ডিপোর ধারণক্ষমতা ৫৭ লাখ লিটার হলেও বর্তমানে ২২ লাখ ১৫ হাজার লিটার ডিজেল মজুত আছে। পেট্রল, অকটেন ও কেরোসিনের মজুত কিছুটা সীমিত হলেও আগামী সাত দিন সরবরাহ সচল রাখা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন ডিপো ব্যবস্থাপক আহসান হাবিব। উত্তরাঞ্চলের আটটি কৃষিনির্ভর জেলায় সেচ কার্যক্রম এবং যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে ২০১৭ সালে ভারতের সঙ্গে ১৫ বছর মেয়াদি একটি চুক্তি সই হয়।
২০২৬ সালের মধ্যে মোট ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৩ সালে ৩৫,৭১৮ টন, ২০২৪ সালে ২৮,২০৪ টন এবং ২০২৫ সালে রেকর্ড ১,২৪,২১৬ টন ডিজেল আমদানি করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যেখানে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা। এই ব্যয়ের একটি অংশ বিপিসি নিজস্ব তহবিল থেকে এবং বাকিটা ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে জোগান দিচ্ছে। এছাড়া ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে আগামী চার মাসের মধ্যে অতিরিক্ত আরও ৫০ হাজার টন ডিজেল আমদানির একটি প্রস্তাব জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে বিপিসি।

