কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জেএসসি (ভোকেশনাল) ও এসএসসি (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমের বার্ষিক শিক্ষা বর্ষপঞ্জি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বোর্ডের আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইটে এ বর্ষপঞ্জি প্রকাশ করা হয়।
প্রকাশিত বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, সাপ্তাহিক ছুটি (শুক্র ও শনিবার) বাদ দিয়ে ২০২৬ সালে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মোট বাৎসরিক ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৬ দিন।
বর্ষপঞ্জির বিশেষ নির্দেশনা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
১. ২০২৬ সালের শিক্ষাবর্ষ চলবে ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। শিক্ষাবর্ষের প্রথম কর্মদিবস অর্থাৎ ১ জানুয়ারিতেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হবে।
২. পাবলিক পরীক্ষা ব্যতীত সব অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিজ উদ্যোগে প্রণয়ন করবে। কোনো অবস্থাতেই অন্য কোনো উৎস থেকে সংগৃহীত প্রশ্নপত্র ব্যবহার করে পরীক্ষা গ্রহণ করা যাবে না।
৩. দেশের সব কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে হবে এবং প্রাত্যহিক সমাবেশের মাধ্যমে জাতীয় সংগীত পরিবেশন বাধ্যতামূলক থাকবে।
৪. সাপ্তাহিক ছুটি (শুক্র ও শনিবার) ছাড়া বছরে মোট ছুটি থাকবে ৫৬ দিন।
৫. কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা বিশিষ্ট ব্যক্তির পরিদর্শনের অজুহাতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বন্ধ বা প্রতিষ্ঠান ছুটি ঘোষণা করা যাবে না। একইসঙ্গে অতিথি বা পরিদর্শনকারী ব্যক্তির আগমন উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখা যাবে না।
৬. ছুটির সময় ভর্তি পরীক্ষা বা অন্যান্য পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলে প্রয়োজনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
৭. যেসব প্রতিষ্ঠান পাবলিক পরীক্ষার কেন্দ্র বা ভেন্যু হিসেবে ব্যবহৃত হবে, সেখানে পরীক্ষার সময় বিকল্প ব্যবস্থায় পাঠদান চালু রাখতে হবে। আর যেসব প্রতিষ্ঠান কেন্দ্র বা ভেন্যু নয়, সেগুলোতে স্বাভাবিক নিয়মেই শ্রেণি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। কোনো অবস্থাতেই পাঠদান সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা যাবে না।
৮. জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ দিবস যেমন—২১ ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বর শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে এসব দিবস উপলক্ষে বিষয়ভিত্তিক কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে যথাযথভাবে দিবসগুলো উদ্যাপন করতে হবে।
৯. হাওর অঞ্চলে বোরো ধান কাটার সময় মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি বেশি দেখা যায়। এ কারণে হাওর এলাকার প্রতিষ্ঠানপ্রধানেরা পবিত্র ঈদুল ফিতর ও গ্রীষ্মকালীন ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করে উল্লিখিত সময়ে সর্বোচ্চ ১০ দিন শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রাখতে পারবেন। তবে এই ছুটি সমন্বয়ের বিপরীতে গ্রীষ্মকালীন ছুটির সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রেখে নিয়মিত পাঠদান চালাতে হবে।
১০. সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিন নির্ধারিত হওয়ায় প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে যথাযথ পাঠপরিকল্পনা প্রণয়ন করে নির্ধারিত সময়ে পাঠদান সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ক্যাপশন:

