জাবেদ শেখ, শরীয়তপুর প্রতিনিধি :
শরীয়তপুরের রুদ্রকার ইউনিয়নের সুবচনী বাজারে অবৈধভাবে নির্মিত বিএনপির একটি ক্লাব উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
এ সময় স্থানীয় নেতাকর্মীদের ক্ষোভের মুখে সহকারী কমিশনার (ভূমি) (এসিল্যান্ড) নাফিস এলাহী ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসার শহিদুল ইসলামকে ভূমি অফিসে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার (৯ মার্চ) রাত ৮টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সুবচনী ভূমি অফিসের সামনে এসিল্যান্ডের গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। ভূমি অফিসের ভেতর ও বাইরে অসংখ্য বিএনপি নেতাকর্মী অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন এবং ভূমি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
এ সময় ভূমি অফিসের সন্নিকটে একটি একতলা ভবনের কাঠামো ভেকু মেশিন ও হাতুড়ি দিয়ে ভাঙতে দেখা যায়। স্থানীয়দের দাবি, এটি আওয়ামী লীগের ক্লাবঘর ছিল।
রুদ্রকার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও পালং থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মিজানুর রহমান ঢালী গণমাধ্যমকে বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে বিএনপির ক্লাব ভেঙে দেওয়া হয়েছিল এবং দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা করা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট জায়গাটি ডিসিআরভুক্ত ছিল এবং সেখানে আগে থেকেই ক্লাব কার্যক্রম চলছিল। পরে ওই স্থানে ‘মহিলা মার্কেট’ নামে একটি ভবন নির্মাণ করা হয়, তবে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে কোনো কার্যক্রম নেই বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, বাজারের পাশে প্রায় ১৫ ফুট জায়গা নিয়ে তারা সম্প্রতি একটি ছোট ক্লাবঘর নির্মাণ করেন। তবে আজ কোনো নোটিশ ছাড়াই তা ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তহসিলদারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে তার অপসারণ দাবি করেন।
এদিকে স্থানীয় বিএনপির নেতারা ঘটনাটির নিন্দা জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন। রুদ্রকার ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি নজরুল শেখ এবং জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পান্থ তালুকদার বলেন, নোটিশ ছাড়া কোনো রাজনৈতিক দলের স্থাপনা ভাঙা হলে তা গ্রহণযোগ্য নয়।
তবে এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

