শাহাদাৎ বাবু, নোয়াখালী সংবাদদাতা:
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী যুবতীকে ৬ মাস ধরে ধর্ষণের অভিযোগে মো. ফারুক ওরফে ড্রাইভার ফারুক (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আসামিকে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়। এর আগে, গতকাল শুক্রবার রাতের দিকে ভুক্তভোগীর বাবা আসামির বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন। পরে একই দিন রাতে চরজব্বার থানা পুলিশ উপজেলার চর আমিনুল হক গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃত ফারুক চরওয়াপদা ইউনিয়নের চর আমিনুল হক গ্রামের মৃত অজি উল্যার ছেলে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মেয়ের পেট দেখে সন্দেহ হলে জিজ্ঞাসা করলে মেয়ে ধর্ষণের কথা মা’কে বলে। মাস ছয়েক আগে বাড়িতে কেউ না থাকার সুবাদে প্রতিবন্ধী যুবতীকে ফুসলিয়ে বিরিয়ানি দেয়ার কথা বলে রান্না ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এতে ওই প্রতিবন্ধী যুবতী গর্ভবতী হয়ে পড়েন। তার শাররীক পরিবর্তন দেখা দিলে বিষয়টি জানাজানি হয়। শুক্রবার রাতে ওই প্রতিবন্ধী যুবতীর পরিবার চরজব্বার থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি ধর্ষণ মামলার করেন। মামলা করার পরেই মো. ফারুক ওরফে ফারুক ড্রাইভারকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
ওই যুবতীর বাবা বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রায় তাদের বাড়িতে আসতেন, সম্প্রতি তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ভোট চাইতে এসেছেন।
ধর্ষিতার মা বলেন, ইদানিং জামায়াতের ভোট চাইতে প্রায় আসে সে, একাধিকবার বাড়িতে আসলে আমার সন্দেহ হয়, এরপর মেয়েকে জিজ্ঞেস করলে ফারুক তাকে ধর্ষন করেছে বলে জানায় সে।
এদিকে, জামায়াতের চর আমিনুল হক ইউনিট সভাপতি মাওলানা সালাউদ্দিন জানান, তিনি এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা নন, ৫ই আগস্টের পরে লক্ষীপুরের পোড়া গাছার কটিহাটি গ্রাম থেকে এসে এখানে বাড়ি করেছেন। এলাকার মানুষের সাথে তেমন কোনো সখ্যতাও নেই তার। তিনি জামাতের সমর্থক পরিচয় দিলেও আমাদের সাথে সম্পর্ক নেই। অনেকেই তাকে ইউনিয়ন বিএনপির সমাবেশেও দেখেছেন।
তিনি আরো বলেন, অপরাধী যেই হোক তার কোন দল নেই, তাকে তার পাপের শাস্তি পেতে হবে।
চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি লুৎফর রহমান জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামির কোন রাজনৈতিক পরিচয় জানা নেই।
মেয়ের বাবা বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে আদালতে সোর্পদ করা হয়েছে ।

