দেশের তীব্র গ্যাস সংকট মোকাবিলায় বেসরকারি খাতে গ্যাস আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও, তা নিয়ে এখন শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমদানির অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। এই ‘অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা’র ফলে জ্বালানি খাতে নতুন করে অস্থিরতা ও বৈষম্যের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
আওয়ামী লীগপন্থী হিসেবে পরিচিত বেশ কয়েকজন শীর্ষ ব্যবসায়ী দাবি করেছেন যে, এলএনজি (LNG) আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং আর্থিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তাঁদের আবেদনগুলো ঝুলে আছে। তাঁদের মতে: রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে আমদানির লাইসেন্স বা অনুমোদন আটকে রাখা হচ্ছে।
এর ফলে বাজারে গ্যাসের সরবরাহ আরও সংকুচিত হচ্ছে এবং শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। জাতীয় স্বার্থের চেয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাকে বড় করে দেখায় গ্যাসের কৃত্রিম সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
সরকার ও সংশ্লিষ্ট জ্বালানি বিভাগ এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, আমদানির অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনটি প্রধান বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে: বর্তমানে দেশে ডলারের রিজার্ভ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বড় অংকের আমদানির অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
যারা কারিগরিভাবে যোগ্য, কেবল তারাই অগ্রাধিকার পাচ্ছে। কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়া সরকারের লক্ষ্য নয়।
তবে বাস্তব ক্ষেত্রে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হওয়ায় সরকারের এই ব্যাখ্যা ব্যবসায়ীদের বড় একটি অংশকে আশ্বস্ত করতে পারছে না। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জ্বালানির মতো সংবেদনশীল ও কৌশলগত একটি খাতকে রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখা প্রয়োজন।
ড. ইজাজ হোসেন (জ্বালানি বিশেষজ্ঞ): তাঁর মতে, আমদানির প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং প্রতিযোগিতামূলক হওয়া উচিত। রাজনৈতিক বিবেচনায় কাউকে বাদ দেওয়া বা কাউকে সুবিধা দেওয়া—উভয়ই দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।
এফবিসিসিআই-এর পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে যেন সক্ষম ব্যবসায়ীদের দ্রুত আমদানির সুযোগ দিয়ে কলকারখানার চাকা সচল রাখা হয়। গ্যাস সংকটের কারণে বর্তমানে সিএনজি স্টেশন, বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং পোশাক শিল্পে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে যদি আমদানির পথ রুদ্ধ থাকে, তবে এই সংকট আরও গভীর হয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও দেশের রপ্তানি আয়কে ঝুঁকির মুখে ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

