রংপুর সদর উপজেলায় সরকারি নদী থেকে মাটি ও বালু অবাধে উত্তোলনের অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী মহলের নেতৃত্বে এই অবৈধ উত্তোলন চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই।
সূত্রের খবর, উপজেলার বিভিন্ন নদী ও শাখা খাল থেকে দিন-রাত ড্রেজার মেশিন বসিয়ে মাটি ও বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ট্রাক ও ভেকু মেশিনের মাধ্যমে এগুলো বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং আশপাশের কৃষিজমি ও বসতভিটা ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অবৈধ উত্তোলনের কারণে নদীর তীর ভাঙন বেড়েছে এবং নদীর গভীরতা অস্বাভাবিকভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় এবং নদীসংলগ্ন মানুষের জীবিকা হুমকির মধ্যে পড়েছে। অনেক কৃষক ইতোমধ্যেই জমি হারানোর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
পরিবেশ সচেতনরা জানিয়েছেন, এই অপরিকল্পিত উত্তোলন নদীর বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস করে, পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত করে এবং জীববৈচিত্র্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
এলাকাবাসী আরও জানিয়েছেন, প্রতিদিন শত শত ভারী যানবাহন গ্রামীণ সড়ক ব্যবহার করায় রাস্তাঘাট ভেঙে পড়ছে। ধুলাবালি ও শব্দদূষণে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। স্কুলগামী শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের চলাচলে চরম সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, প্রশাসন বিষয়টি জানলেও অজ্ঞাত কারণে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফলে অবৈধ উত্তোলনকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত, অবৈধ ড্রেজার অপসারণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। নদী রক্ষায় সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তাও তারা উল্লেখ করেছেন।
এলাকাবাসী মন্তব্য করেছেন, “নদী শুধু প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, এটি জনজীবন ও পরিবেশের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে এর ভয়াবহ পরিণতি পুরো অঞ্চলের মানুষকে বহন করতে হবে।

