এম এ আউয়াল আশিক:
বরিশালের গণপূর্ত বিভাগে (পিডব্লিউডি) কর্মরত ভাউচারভিত্তিক কর্মচারী মোঃ মজিবর রহমানের ( অবসরপ্রাপ্ত ড্রাইভার)বিরুদ্ধে অবসরের পরও দীর্ঘদিন দপ্তরের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা, অন্যের নামে বরাদ্দকৃত সরকারি বাসায় বসবাস করা এবং প্রতিবেশীদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গণপূর্ত বিভাগ থেকে অবসর গ্রহণের পরও মোঃ মজিবর রহমান ভাউচারভিত্তিক কর্মচারী হিসেবে দপ্তরে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি অন্য একজনের নামে বরাদ্দ পাওয়া সরকারি বাসায় বসবাস করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার আচরণ ও প্রভাবের কারণে একই বিভাগের আরেক কর্মচারী মো: ছালেক মিয়া, যিনি অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত, বাধ্য হয়ে বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন বলে জানা গেছে।
এছাড়া পাশের বাসায় বসবাসকারী সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মচারী মো. জহিরকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি বাসার ভেতরে ছাগল পালন করার কারণে প্রতিদিন দুর্গন্ধ ও ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়, যা আশপাশের বাসিন্দাদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে শিশুদের শ্বাসকষ্টসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলেও তারা জানান।
প্রতিবেশীরা আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে মোঃ মজিবর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মারধরের হুমকি দেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ভুক্তভোগী মো. জহির থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে বাধ্য হন।
এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি বাসা ব্যবহারের নিয়মনীতি লঙ্ঘন, অবসর পরবর্তী চাকরি এবং প্রতিবেশীদের ওপর হয়রানির অভিযোগগুলো দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মোঃ মজিবর রহমান বলেন, “আমার এই ছোট বিষয়টি নিয়েও আপনাদের মাথা ঘামাতে হচ্ছে! এর চেয়েও বড় বড় অনিয়ম রয়েছে, সেগুলো নিয়ে কাজ করেন।”
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

