চাঁপাইনবাবগঞ্জের চৌডালায় সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন পরিচয় দিয়ে জোরপূর্বক জমি দখল ও মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রতিবাদে এবং ভূমিদস্যুর বিচারের দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার চৌডালা মাদরাসা মোড়ে মানববন্ধন করে ভুক্তভোগী জমির মালিক ও এলাকাবাসী।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এলাকার ভূমিদস্যু খ্যাত শাহ আলম ওরফে কাজল ক্যাপ্টেন পরিচয় দিয়ে প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন মানুষের জমি জায়গা দখল করে। বাধা দিতে গেলেই তার গুন্ডা বাহিনী দ্বারা হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে। এমনকি জমির প্রকৃত মালিকদের নামে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা করে হয়রানি করছে। এতে হয়রানির শিকার হচ্ছেন ভুক্তভুগীরা।
বক্তারা জমি দখলকারী ভুয়া ক্যাপ্টেনের তদন্তপূর্বক বিচার দাবি করেন। তারা আরও বলেন, গোমস্তাপুর থানার এএসআই সাইদুরের সাথে যোগসাজশ করে এসব অপকর্ম করেন শাহ আলম ওরফে কাজল। যাদের জমি দখল করে উল্টো তাদেরকেই হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে হয়রানী করেন এএসআই সাইদুর। এনিয়ে জমির প্রকৃত মালিকদের বিরুদ্ধেই শাহ আলম ওরফে কাজল তিনটি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।
মানববন্ধনে বক্তারা জানান, এখন পর্যন্ত চৌডালা ইউনিয়নের মাদরাসা মোড় এলাকার শরিফুল ইসলামের ৭ কাঠা, রোকনের সাড়ে ১৩ কাঠা, জোসনা বেগমের ২ কাঠা, আব্দর রাজ্জাকের ৯ কাঠা ও বাঘমারার তুহিনের সাড়ে ৩ কাঠা জমি দখল করেছে শাহ আলম ওরফে কাজল। ঘন্টাবাপি চলা মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, বদিউর রহমান, আব্দুল মতিন, তুহিন, জোসনা খাতুন, সাইদুর রহমানসহ অন্যান্যরা।
এনিয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ক্যাপ্টেন পরিচয়দানকারী শাহ আলম ওরফে কাজলকে পাওয়া যায়নি। তার এসব জমি দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা আপন মামা তাজেমুল হক বলেন, আমার ভাগনে পরিচয় দেয়না, লোকে তাকে ক্যাপ্টেন বলে ডাকে। সকল জমি কাগজপত্রের জেরেই দখলে নেয়া হয়েছে। কোন জোরপূর্বক দখলের ঘটনা নেই।
গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক জানান, এনিয়ে মামলা চলমান রয়েছে। আদালত এবিষয়ে সীধান্ত দিলে তা বাস্তবায়ন করা হবে। তবে এএসআই সাইদুরের কোন পক্ষপাতমূলক আচরণ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

