সহিদুল করিম বিপ্লব, রূপগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং (ভিজিএফ) কর্মসূচির চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ভিজিএফ কার্ডের বিপরীতে ১০ কেজি চাল পাওয়ার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৮ থেকে ৯ কেজি চাল।
বৃহস্পতিবার তারাব পৌরসভার ৫টি কেন্দ্রে চাল বিতরণের সময় সরেজমিনে গিয়ে এ অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ তাদের প্রাপ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার ঈদের আগে উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও দুইটি পৌরসভায় ৭ হাজার ৭৭৪ জনকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। তারাব পৌরসভায় ৪ হাজার ৬২৫ জনকে ভিজিএফ কার্ড দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, চাল বিতরণের সময় সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ১০ কেজি দেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে ওজন করলে দেখা যায় প্রায় ৮ থেকে ৯ কেজি। চাল ডিজিটাল স্কেলে মেপে দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে আনুমানিকভাবে বালতিতে করে দায়সারাভাবে চাল দেওয়া হচ্ছে কার্ডধারীদের।
তবে অনেকেই বিষয়টি জানলেও ভবিষ্যতে তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার আশঙ্কায় প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি এসব বাড়তি চাল খোলা বাজারে বিক্রি করে দেন বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
হাজেরা বেগম নামে এক কার্ডধারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমাদের বলা হয় ১০ কেজি চাল দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু মেপে দেখা গেছে দেড় কেজি কম। আমরা গরিব মানুষ, তাই প্রতিবাদ করতে পারি না।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ভিজিএফ কর্মসূচি মূলত অসহায়, দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য চালু করা হয়েছে। সেখানে যদি ওজনে কম দেওয়া হয় বা অনিয়ম ঘটে, তাহলে প্রকৃত উপকারভোগীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং সরকারের মানবিক উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।
তৃণমূল পর্যায়ে চাল বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের অনিয়ম রোধে স্থানীয় প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি, ওজন মেশিনের ব্যবহার এবং উপকারভোগীদের উপস্থিতিতে চাল বিতরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আরিফ মোহাম্মদ বলেন, “আমরা ঠিক মাপমতো চাল দিয়ে দিয়েছি। পরে কেউ যদি চাল কম দেয়, সেটা আমাদের দেখার বিষয় নয়।”
এ ব্যাপারে তারাব পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, “চালের বস্তা আনা-নেওয়ার সময় কিছু চাল পড়ে যেতে পারে। তখন সবাইকে দিতে গিয়ে ৫০০ গ্রাম কম-বেশি হওয়া স্বাভাবিক। তবে ২ কেজি চাল কম দেওয়া অন্যায়। এমন হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরবর্তীতে চাল ডিজিটাল স্কেলে মেপে দেওয়া হবে।”

