পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় চলতি অর্থবছরের কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) কর্মসূচির বেশ কয়েকটি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বরাদ্দকৃত খাদ্যশস্যের বিপরীতে প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে না করে অনেক ক্ষেত্রে নামমাত্র কাজ দেখিয়ে চাল উত্তোলন করা হয়েছে এবং তা কালোবাজারে বিক্রি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে দুই দফায় বাউফল উপজেলায় প্রায় ৪২০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ খাদ্যশস্যের বিপরীতে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কারের জন্য মোট ৬১টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয় এবং প্রতিটি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি করা হয় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের। ইতিমধ্যে অধিকাংশ প্রকল্পের কাজ শেষ দেখিয়ে বরাদ্দকৃত খাদ্যশস্য উত্তোলন করা হয়েছে।
সরেজমিনে কয়েকটি প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শ্রমিকের পরিবর্তে ভেকু বা এক্সকাভেটর মেশিন দিয়ে মাটির কাজ করা হয়েছে। এতে রাস্তার দুই পাশের বহু মূল্যবান ও পরিবেশবান্ধব গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে, যা নিয়ে পরিবেশ সচেতন মহলে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
সূর্যমণি ইউনিয়নের একটি রাস্তা পুনর্নির্মাণ প্রকল্পে ৬.৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ থাকলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, চাল বিক্রির টাকা দিয়ে সামান্য কাজ করা হয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে বগা, কালিশুরী, কনকদিয়া ও কাছিপাড়া ইউনিয়নের কয়েকটি প্রকল্প নিয়েও।
তবে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কমিটির সভাপতিরা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মাইদুল মোরশেদ মুরাদ জানান, ভবিষ্যতে গাছ সংরক্ষণ করে প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সালেহ আহমেদ বলেন, অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
