মোঃ তৌহিদুর রহমান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের ১ নং তেনাপচা আশ্রয় কেন্দ্রের মূল্যবান অনেকগুলো মেহগনি গাছ অবৈধভাবে বেচাকেনার অভিযোগ উঠেছে। গাছগুলো ১৭-১৮ বছর আগে পানির দামে কিনে এখন কেটে নিচ্ছেন স্হানীয় নজরুল মোল্লা নামের এক ব্যাক্তি।
তিনি দেবগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ইসমাইল মোল্লার বড় ভাই এবং তিনি নিজেও বিএনপি করেন বলে সাংবাদিকদের জানান। তবে নজরুল মোল্লার দাবি গাছগুলো তিনি বৈধভাবে আশ্রয় কেন্দ্রের বসতিদের কাছ থেকে কেনার পর এখন কেটে নিচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ২০-২২ বছর বয়সী আশ্রয় কেন্দ্রের মোটামোটা ৫টি মেহগনি গাছ কেটে ফেলে রাখা হয়েছে। কাটা গাছগুলো স’মিলে নেয়ার প্রস্তুতি চলছে। এ সময় মনোয়ারা বেগম নামে এক নারী সাংবাদিকদের জানান, তার মা আছমা বেগমের নামে এখানে একটি ঘর বরাদ্দ রয়েছে। সে তার জায়গার মধ্যে থাকা ৫টি চিকন গাছ ১৭-১৮ বছর আগে ১৪ শ টাকায় নজরুল মোল্লার নিকট বিক্রি করে। কিন্তু তখন তিনি গাছগুলো কেটে নেননি। এত বছর পর এখন কেটে নিচ্ছেন। এভাবে এ আশ্রয় কেন্দ্রের অপর বাসিন্দা শহীদ মোল্লার কাছ থেকে কেনা ৪টি বড় মেহগনি গাছ তিনি কেটে রেখেছেন।
স্থানীয়রা জানান, তৎকালীন সময়ে আশ্রয় কেন্দ্রের অনেকের কাছ থেকে নজরুল মোল্লা সস্তায় অনেক চিকন চিকন গাছ কিনে রেখেছিলেন। এখন গাছগুলো অনেক মোটাতাজা ও মূল্যবান হয়ে উঠেছে। তবে বিক্রেতাদের তিনি নতুন করে কোন বাড়তি টাকা দেননি।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে নজরুল মোল্লার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, যখন গাছগুলো কেনার অল্প কিছুদিন পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় চলে আসে। আমি বিএনপি করতাম। তাই বাঁধা আসবে ভেবে তখন আর কাটার চেষ্টা করিনি। তখন বিএনপির কোন পদে ছিলেন বা এখন কোন পদে রয়েছেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি রাজবাড়ীর কোর্টে একটু ব্যস্ত আছি। পরে আপনাদের সাথে কথা বলব।
দেবগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও নজরুল মোল্লার ছোটভাই ইসমাইল মোল্লা সাংবাদিকদের জানান, তার ভাই বৈধভাবে গাছগুলো কিনেছিলেন এবং এখন কেটে নিচ্ছেন। এভাবে বহুদিন ধরেই আশ্রয় কেন্দ্রের বাসিন্দারা বিভিন্নজনের কাছে গাছপালা বিক্রি করে আসছেন। কোনদিন কোন সমস্যা হতে দেখিনি।
গোয়ালন্দ উপজেলা ফরেষ্টার আব্দুল আজিজ বলেন, আশ্রয় কেন্দ্রের গাছগুলো বন বিভাগের নয়। গাছগুলোর বিষয়ে ইউএনও স্যার ভালো বলতে পারবেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, তিনি বিষয়টি অবগত হয়েছেন। সরকারী জায়গার গাছ বিনা অনুমতিতে বেচা-কেনা করার কোন সুযোগ নেই। আশ্রয় কেন্দ্রের উপকার ভোগীদের সরকার দুই শতাংশ করে জায়গা সহ বসবাসের জন্য ঘর বরাদ্দ দিয়েছে। তারা সেখানকার গাছপালার ফলমূল ভোগ করতে পারবেন। কিন্তু বিনা অনুমতিতে বিক্রি করতে পারবেন না। আমি বিষয়টির খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করব।

