নিজস্ব প্রতিবেদক:
আর মাত্র এক সপ্তাহের অপেক্ষা। সামনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে আলোচিত আসনগুলোর একটি এখন ঢাকা–১৭। কে জিতবেন এই প্রশ্ন ঘিরে চলছে ভোটারদের চুলচেরা বিশ্লেষণ। প্রচার–প্রচারণার মাঠে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. এস এম খালিদুজ্জামান এবং বিএনপি পুনর্গঠনের সাবেক উদ্যোক্তা ও বিজেপি (মতিন) নেতা কামরুল হাসান নাসিম। ভোটারদের মতে, লড়াই দ্বিমুখী থেকে এখন ত্রিমুখী সমীকরণে পৌঁছেছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, ঢাকা–১৭ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ২৫ হাজার ১৮ জন। তবে সংশোধিত ভোটার তালিকা অনুযায়ী এ সংখ্যা সাড়ে তিন লাখে পৌঁছেছে বলে প্রার্থীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে।
এই আসনে মোট প্রার্থী ১২ জন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মনজুর হুমায়ুন, জাতীয় পার্টি–জেপির তপু রায়হান, জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল) থেকে আতিক আহমেদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ উল্যাহ, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. শামীম আহমদ, জামায়াত জোটের বাংলাদেশ লেবার পার্টির মুহাম্মদ রাশেদুল হক, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) এস এম আবুল কালাম আজাদ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আনিসুজ্জামান খোকন ও কাজী এনায়েত উল্লাহ। তবে এদের মধ্যে কাজী এনায়েত উল্লাহ ছাড়া অন্যদের তেমন দৃশ্যমান প্রচারণায় দেখা যাচ্ছে না।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশব্যাপী সফরে থাকলেও জাতীয় নির্বাচন নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই বক্তব্য দিচ্ছেন। ঢাকা–১৭ আসনে নিজের প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রসঙ্গে তিনি কড়াইল ও ভাসানটেক এলাকায় দুটি সমাবেশে অংশ নেন এবং কড়াইলবাসীর জন্য স্থায়ী আবাসনের প্রতিশ্রুতি দেন।
তারেক রহমানের পক্ষে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আব্দুস সালাম। পাশাপাশি প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী ঊর্মিলা সিঁথিকেও উঠান বৈঠকে অংশ নিতে দেখা গেছে। পুরো আসনজুড়ে ব্যানার–ফেস্টুনে ছয়লাপ বিএনপি। দলীয় নেতাকর্মী, বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থী এবং বিএনপি-সমর্থিত সাংবাদিকদেরও মাঠে সক্রিয় দেখা যাচ্ছে।
তবে ভোটের বাজারে তারেক রহমানের জনপ্রিয়তা তৈরি হতে সময় লাগছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। কারণ, এই আসনে বিএনপির সমমনা দল বিজেপির নেতা আন্দালিব রহমান পার্থ প্রার্থী হবেন এমন আলোচনা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তাঁকে ভোলা থেকে নির্বাচন করতে হচ্ছে। ফলে ভোটের সমীকরণ জটিল হয়ে উঠেছে।
শুরুর দিকে জামায়াত প্রার্থী ডা. এস এম খালিদুজ্জামান তারেক রহমানের জন্য শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হলেও আলোচিত রাজনীতিক কামরুল হাসান নাসিম মাঠে নামায় এখন লড়াই ত্রিমুখী রূপ নিচ্ছে বলে মনে করছেন ভোটাররা।
নাসিম খুব সূক্ষ্ম পরিকল্পনায় তার প্রচারণা সাজিয়েছেন। গুলশান–বনানীসহ অভিজাত এলাকায় যেমন তাঁর বিলবোর্ড ও ব্যানার চোখে পড়ছে, তেমনি উচ্চবিত্ত ভোটারদের পছন্দের তালিকায়ও জায়গা করে নিচ্ছেন তিনি। এতে জামায়াত প্রার্থী খালিদুজ্জামানের ভোট সংগ্রহে বাধা তৈরি হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গুলশান, বারিধারা ও বনানীর প্রভাবশালী মহল নীরবে নাসিমের পক্ষে কাজ করছেন বলেও আলোচনা রয়েছে।
এদিকে রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন মেরুতে অবস্থান করলেও ঢাকা–১৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতের সঙ্গে ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব থাকায় নাসিমকে সম্ভাবনাময় প্রার্থী হিসেবে দেখছেন অনেকেই।
অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ক্যান্টনমেন্ট-সংক্রান্ত বিতর্ক ও কিছু বেফাঁস মন্তব্যের কারণে জামায়াত প্রার্থী খালিদুজ্জামান নির্বাচনী দৌড়ে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছেন বলে মত ভোটারদের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে নিয়ে চলছে বিদ্রুপ।
রাজনৈতিক বাস্তবতায় এখন তারেক রহমান ও খালিদুজ্জামানের দ্বন্দ্বের মাঝখানে নির্ভার ভঙ্গিতে এগিয়ে যাচ্ছেন লেখক, গবেষক, গায়ক, দার্শনিক ও আবৃত্তিকার কামরুল হাসান নাসিম। তাঁর সৃজনশীল প্রচারণা ও রহস্যময় উদ্যোগে ঢাকা–১৭ আসনের নির্বাচনী উত্তাপ দিন দিন বাড়ছে।
তারেক রহমান বলছেন, তাঁর বিপক্ষে কেউ দাঁড়াতে পারবে না। জামায়াত প্রার্থীর দাবি, ঢাকার সব আসনই যাবে জামায়াতের দখলে। আর নাসিমের সংক্ষিপ্ত মন্তব্য— “দেখা যাক।” সব জল্পনার অবসান ঘটাতে এখন অপেক্ষা শুধু ভোটের দিন—১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
চাইলে এটাকে

