বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের লন্ডনে নেওয়ার প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে। তাঁকে বহনের জন্য একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স জার্মানি থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছে, যা আগামীকাল শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকায় অবস্থিত কাতার দূতাবাসের জনসংযোগ কর্মকর্তা আসাদুর রহমান আসাদ গণমাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, কাতার সরকারের ব্যবস্থাপনায় একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে আনা হচ্ছে, যা জার্মানি থেকে উড্ডয়ন করে সরাসরি ঢাকায় আসছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী শনিবার বিকেলে বিমানটি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, কাতার রাজপরিবার যে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেটির একটি যন্ত্রগত সমস্যার কারণে তা ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে কাতারের আমির তাঁর দেওয়া আশ্বাস অনুযায়ী বিকল্প একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠানোর ব্যবস্থা করেছেন, যেটিই শনিবার ঢাকায় পৌঁছাবে।
তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান, বর্তমানে যে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি আসছে সেটিও কাতারেরই ব্যবহৃত একটি বিমান, তবে এটি একটি জার্মান কোম্পানির তৈরি। অর্থাৎ কাতার সরাসরি জার্মানি থেকে আলাদা কোনো বিমানের ব্যবস্থা করেনি; বরং নিজেদের বহরের জার্মান-নির্মিত এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটিই বাংলাদেশের উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে।
এর মধ্যে গত ১৩ দিন ধরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর অবস্থার বিষয়ে সার্বিকভাবে উদ্বেগ বিরাজ করছে দেশজুড়ে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ফুসফুসে সংক্রমণজনিত জটিলতা কিছুটা কাটিয়ে উঠলেও, এখনো তিনি পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নন। হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতায় যে জটিলতা দেখা দিয়েছিল, সেটিও খানিকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে শারীরিক অন্যান্য সমস্যা এখনো তেমন পরিবর্তন ছাড়াই রয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, ২৩ নভেম্বর রাতের দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হলে বেগম খালেদা জিয়াকে দ্রুত এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষায় তার ফুসফুসে মারাত্মক সংক্রমণ ধরা পড়ে। অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে তাঁকে হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট (এইচডিইউ) এবং পরবর্তীতে চিকিৎসকদের পরামর্শে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) স্থানান্তর করা হয়।
চিকিৎসকদের মতে, দেশে বিদ্যমান চিকিৎসাসেবার সীমাবদ্ধতার কারণে তাঁর জন্য বিদেশে বিশেষায়িত চিকিৎসা প্রয়োজন, সে কারণেই লন্ডনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় পৌঁছানোর পর চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশযাত্রার চূড়ান্ত সময় নির্ধারণ করা হবে। দেশবাসী এখন তাকিয়ে রয়েছে—অসুস্থ দেশনেত্রীর আরোগ্যের খবর শুনতে।

