নুরী আক্তার মুন, ডেস্ক রিপোর্ট :
রমজানের এক মাস সিয়ামের পর মুসলিমদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। ঘরে ঘরে নানা সুস্বাদু খাবারের আয়োজন হলেও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, আনন্দের সঙ্গে স্বাস্থ্যও রক্ষা করতে হবে।
তাদের পরামর্শ অনুযায়ী, হঠাৎ করে অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত বা মসলাদার খাবার খেলে হজমের সমস্যা, গ্যাস ও অ্যাসিডিটি হতে পারে। তাই ঈদের দিন হালকা নাশতা দিয়ে শুরু করা উচিত। দুধ-সেমাই, পায়েশ বা কাস্টার্ড নেওয়া যেতে পারে, তবে পরিমিতভাবে। মিষ্টি তৈরিতে অতিরিক্ত চিনি, ঘি ও মার্জারিন কম ব্যবহার করা ভালো।
ঈদের প্রধান খাবারে পোলাও, বিরিয়ানি বা খিচুড়ির সঙ্গে মাংস থাকলেও যারা স্বাস্থ্য সমস্যা যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগে ভুগছেন, তাদের জন্য পরিমিত পরিমাণে খাবার গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। মাছ, ডিম বা অল্প মাংস নিরাপদ বিকল্প হতে পারে। খাবারের আগে সবজি ও সালাদ এবং পরে ভাত বা পোলাও খাওয়া হজম ও রক্তে শর্করার হঠাৎ বৃদ্ধিকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, রান্নায় কম তেল ব্যবহার, বেক, গ্রিল বা স্টিম করা খাবার বেছে নেওয়া এবং ঘি-মাখন সীমিত ব্যবহার করা উচিত। এছাড়া প্রতিদিন অন্তত ১০০ গ্রাম সবজি বা সালাদ এবং পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। ভারী খাবারের পরে বোরহানি, লেবু পানি, জিরা পানি বা ঘরে তৈরি জুস হজমে সহায়ক। কোল্ড ড্রিঙ্কস ও কৃত্রিম পানীয় এড়ানো উচিত।
খাবারের পরে সরাসরি শুয়ে পড়া ঠিক নয়, অন্তত দুই ঘণ্টা বিরতি রাখা ভালো। হালকা হাঁটাহাঁটি বা ব্যায়াম হজম ও শরীর চাঙ্গা রাখতে সাহায্য করে।
সচেতন খাদ্যাভ্যাস, পরিমিতি ও স্বাস্থ্যকর রান্না মানলে ঈদ উদযাপন হবে আরও স্বাস্থ্যসম্মত ও আনন্দঘন।


