সোমবার, ২ মার্চ। বাংলাদেশ সচিবালয়ের এক ব্যস্ত দুপুরে সাংবাদিকদের সামনে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট বার্তা দিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমদ। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি জানালেন—ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত করে তাদের সব সুযোগ-সুবিধা বাতিল করা হবে, পাশাপাশি নেওয়া হবে আইনানুগ ব্যবস্থা।
মন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছিল প্রায় এক লাখ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই তালিকা বেড়ে আড়াই লাখে পৌঁছেছে। এই বাড়তির মধ্যে বিপুলসংখ্যক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৬ জন সচিব ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রমাণিত হওয়ায় তাদের ভাতা বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল-এর মাধ্যমে তালিকা যাচাই-বাছাই চলছে এবং ইতোমধ্যে ৩০০ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সরকার স্পষ্ট করেছে—প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা যেন প্রাপ্য সব সুযোগ-সুবিধা পান, সে বিষয়ে তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ভুয়া পরিচয়ে নেওয়া আর্থিক সুবিধাও পুনরুদ্ধার করা হবে।
একই সঙ্গে বৈঠকে উঠে আসে জুলাই আন্দোলনের আহত ও শহীদ পরিবারের প্রসঙ্গ। মন্ত্রী জানান, এসব পরিবারের কল্যাণে মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরিদপ্তর’ গঠন করা হয়েছে। এই পরিদপ্তরের মাধ্যমে পুনর্বাসন ও সহায়তার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন হচ্ছে। জুলাইয়ের আহত যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের জন্য নেওয়া পদক্ষেপগুলো সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানতে চেয়েছেন—এখন পর্যন্ত কী কী উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়েছে এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী।
বিশেষ করে যেসব শহীদ পরিবারের সন্তান স্কুল থেকে ঝরে পড়েছে, তাদের শিক্ষাভাতার আওতায় এনে আবার পড়াশোনায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ স্পষ্ট—পিতৃহারা হওয়ার কারণে কোনো শিশুই যেন শিক্ষার বাইরে না থাকে।
সচিবালয়ের সেই ব্রিফিংয়ে তাই একদিকে ছিল ভুয়া পরিচয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, অন্যদিকে ছিল শহীদ ও আহত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার। সরকার জানিয়ে দিল—ন্যায়বিচার ও পুনর্বাসন, দুটো পথেই তারা এগোতে চায় দৃঢ়ভাবে।

