শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে সারাদেশে ঘন কুয়াশার দাপট শুরু হয়েছে। এই প্রতিকূল আবহাওয়ায় ঢাকা-ভাঙ্গা-খুলনা মহাসড়কসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ও নৌযান চলাচলে চরম অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। গত শনিবার সকালে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় অ্যাম্বুলেন্স ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের তিন জন নিহত হয়েছেন।
ভাঙ্গায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: নিহত মিজানুর রহমান স্ট্রোক করে মাসখানেক ধরে যশোরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য স্ত্রী নীলা ও শ্যালক নিশান তাকে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকা আসছিলেন। শনিবার সকাল ৭টার দিকে ঢাকা-ভাঙ্গা-খুলনা মহাসড়কের মনসুরাবাদ এলাকায় পৌঁছালে ঘন কুয়াশার কারণে অ্যাম্বুলেন্সটির সাথে একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান স্বামী, স্ত্রী ও শ্যালক। এ ঘটনায় চালকসহ আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
এক্সপ্রেসওয়েতে ত্রিমুখী সংঘর্ষ ও আহত ৩০: শুধু ভাঙ্গাই নয়, ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের শ্রীনগর, লৌহজং এবং মাদারীপুরের শিবচর এলাকায় ঘন কুয়াশায় পৃথক চারটি দুর্ঘটনায় অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে শ্রীনগরের ছনবাড়ী এলাকায় বাস ও দুই ট্রাকের ত্রিমুখী সংঘর্ষে ১০ জন এবং শিবচরের বন্দরখোলা এলাকায় বাস-পিকআপ-কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষে আরও ১০ জন আহত হন। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, অতিরিক্ত গতি ও কুয়াশায় দৃশ্যমানতা কমে যাওয়াই এসব দুর্ঘটনার মূল কারণ।
নৌপথে দিকভ্রান্ত বরযাত্রী ও লঞ্চ: সড়কপথের মতো নৌপথেও কুয়াশা আতঙ্ক ছড়িয়েছে। যমুনা নদীতে দিক হারিয়ে সারা রাত মাঝনদীতে আটকে ছিল শিশুসহ ৪৭ জন বরযাত্রীবাহী একটি নৌকা। অন্যদিকে, দৌলতদিয়া এলাকায় শতাধিক যাত্রীসহ চরে আটকে পড়া একটি লঞ্চকে ৯৯৯-এ কলের ভিত্তিতে উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে দীর্ঘ ১৫ ঘণ্টা এবং শরীয়তপুর-চাঁদপুর রুটে সাড়ে ৮ ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

