চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) বিভিন্ন পদে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিয়ম মানা হয়েছে কি না—তা যাচাই করতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে দুদক।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দুদকের সহকারী পরিচালক সায়েদ আলমের নেতৃত্বে একটি টিম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে অভিযান শুরু করে। অভিযানের সময় নিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজপত্র ও নথি সংগ্রহ করে যাচাই-বাছাই করা হয়।
দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক সুবেল আহমেদ অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার পর প্রাথমিক অনুসন্ধানের অংশ হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্য ও নথি যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬৫তম সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিলিয়ে মোট ১৫৩ জনকে নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়। এই নিয়োগের তালিকা প্রকাশের পরপরই অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ওঠে।
বিশেষ করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে উপ-উপাচার্য শামীম উদ্দিন খানের কন্যা মাহিরা খান–এর প্রভাষক পদে নিয়োগ। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখতে **কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই), ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই), প্রাণিবিদ্যা, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা (এইচআরএম)**সহ মোট ৯টি বিভাগে ৪৪ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সিন্ডিকেট সভায় ১০০ জন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী এবং ৯ জন কর্মকর্তা নিয়োগের সুপারিশ অনুমোদন দেওয়া হয়। কর্মকর্তাদের মধ্যে নেটওয়ার্ক টেকনিশিয়ান, কম্পিউটার অপারেটর, অফিস সহকারীসহ বিভিন্ন পদ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
দুদকের অভিযানের ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে দুদক সূত্র জানিয়েছে।

