জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা প্রতিনিধি (মির্জাপুর, টাঙ্গাইল):
টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর বাজারে অভিনব কায়দায় জিম্মি করে বিকাশের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা আদায় করেছে প্রতারক চক্র। ভুক্তভোগীর বর্ণনা মতে, মির্জাপুর বাজারের সৈয়দ টাওয়ারে অবস্থিত মির্জাপুর খেলা ঘরের স্বত্বাধিকারীর নিকট অজ্ঞাত একটি নাম্বার থেকে ফোন আসে। ফোনে অপর প্রান্ত হতে একজন বলে আমি নাসির ক্লাস থেকে বলছি।
আমার প্রতিষ্ঠানে একটি খেলার আয়োজন করেছি। এখানে বেশ কিছু খেলার সরঞ্জাম লাগবে। আমি আমার একজন প্রতিনিধি পাঠিয়েছি। সে বাইপাসে অবস্থান করছে কিন্তু আপনার দোকান চিনেনা। একজন লোক পাঠিয়ে ওকে আপনার দোকানে নিয়ে যান। কথামতো ঐ লোকটিকে দোকানে নিয়ে আসার জন্য খেলা ঘরের মালিক তার একজন লোক বাইপাসে পাঠায়। আনুমানিক পাঁচ মিনিট পরই ওই মোবাইল থেকে আরো একবার একটি ফোন আসে। এবার ফোনের ধরণ ও কথাবার্তা অন্যরকম হয়ে যায়।
যে লোকটি একটু আগে ভদ্র ভাষায় অনুনয়-বিনয় করে একজন লোক পাঠাতে বলেছে, সে এখন কঠিন সুরে বলছে “আপনার লোককে আমরা আটক রেখেছি এবং গলায় ছুরি ধরে রেখেছি। এই মুহূর্তে যদি ২০,০০০/= (বিশ হাজার) টাকা না পাঠান তাহলে এখনি ওকে শেষ করে দিব”। ফোনের অপর প্রান্ত হতে তখন কান্না জড়িত কন্ঠে একজন বলছিল “আমাকে বাঁচান, বাঁচান”।
এ কথা শোনার পর দোকানী সঙ্গত কারণেই ভীত- সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে।সে তখন তার ছেলের সাথে ফোনে যোগাযোগ করতে চাইলে ফোন বন্ধ পায়। এবার উপায়ান্তর না দেখে তাড়াহুড়া করে সে ওই বিকাশ নাম্বারে ২০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেয়।
কিছুক্ষণ পর দোকানের ছেলে অক্ষত অবস্থায় ফিরে আসলে জানা যায়, তাকে সিএনজি পাম্পে মোবাইল ফোন বন্ধ করে বসিয়ে রাখা হয়েছিল।
একইভাবে মির্জাপুর বাজারে অবস্থিত মসজিদ মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় জুতার দোকানে ফোন আসে। অনেক জুতা কিনবে বলে জানায় লোকটি।তার দোকানের একজন ছেলেকে কুমুদিনী হাসপাতাল গেটে পাঠাতে বলে। তখন দোকানী তার একজন ছেলেকে কুমুদিনী হাসপাতাল গেটে পাঠিয়ে দেয়। ।পূর্বের ঘটনার মতোই জুতার দোকানের মালিককে বলা হয় “আপনার দোকানের ছেলেকে আমরা আটকে রেখেছি এবং ২০ হাজার টাকা না পাঠালে ওকে মেরে ফেলা হবে। জুতার দোকানের মালিক তার ছেলেকে উদ্ধার করার জন্য ব্যতিব্যস্ত হয়ে পরে। ২০ হাজার টাকা বিকাশে দেয়ার জন্য সে শিপলু টেলিকম-এ আসে। ঘটনা আঁচ করতে পেরে ওই লোককে শিপলু টেলিকমে কর্মরত সানোয়ার হোসেন বিকাশে টাকা পাঠানোর ব্যাপারে নিষেধ করে। কিছুক্ষণ পর জুতার দোকানের ছেলে আপনা আপনি দোকানে চলে আসে।ফোন বন্ধ রাখার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে সে বলে, “তারা আমাকে ফোন বন্ধ রাখার কথা বলেছে, সেজন্য আমি ফোন বন্ধ করে রেখেছি”।
এতো গেল ঘটনার বিবরণ।গভীর উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, এভাবে আর কতদিন মানুষ প্রতারিত হবে।ওরা কি সংখ্যায় অনেক বেশি? জনসচেতনতার পাশাপাশি প্রশাসনের আরও বেশি তৎপর হওয়া জরুরি।

