দেশের বিভিন্ন জেলায় শীতে হাঁড় কাঁপানো ঠান্ডা পড়ার কারণে অনেক মুসলিমের জন্য অজু বা গোসল করা কষ্টকর হয়ে উঠছে। এ পরিস্থিতিতে গরম পানি ব্যবহার করলে সওয়াব কমে যায় কি—এ নিয়ে বহু ভুল ধারণা প্রচলিত আছে।
ফুকাহায়ে কেরাম ব্যাখ্যা করেন, অজু বা গোসলের পানির তাপমাত্রা নিয়ে “সওয়াব কম বা বেশি হয়” এমন কোনো শর্ত ইসলামি শরিয়তে নেই। অনেকের ধারণা, ঠান্ডা পানি দিয়ে কষ্ট করে অজু করলে সওয়াব বেশি এবং গরম পানি ব্যবহার করলে কম। এই ধারণাটি সম্পূর্ণ অনুমাননির্ভর এবং ইসলামের কোনো ভিত্তি নেই।
ইসলামে যেকোনো ইবাদতের মূল ভিত্তি হলো নিয়ত। রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অজুর মূল উদ্দেশ্য হলো পবিত্রতা অর্জন করে মহান আল্লাহর ইবাদতে লিপ্ত হওয়া। পানির তাপমাত্রা যাই হোক না কেন, যদি লক্ষ্য হয় আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, তবে সওয়াব পূর্ণভাবেই প্রাপ্ত হবে।
পবিত্র কোরআনে অজুর নিয়ম বর্ণনা করতে গিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “হে মুমিনগণ, তোমরা যখন নামাজের জন্য দণ্ডায়মান হতে চাও, তখন তোমাদের মুখ ও কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত করো, মাথা মাসেহ করো এবং টাখনু পর্যন্ত পা ধৌত করো।” (সুরা মায়েদা, আয়াত ৬)। এই আয়াতে পানি পবিত্র হওয়ার শর্ত উল্লেখ আছে, কিন্তু তাপমাত্রা নির্ধারণের কোনো নির্দেশনা নেই।
হাদিসে জানা যায়, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রয়োজনে গরম পানি ব্যবহার করে অজু করেছেন। (সুনানে বায়হাকি)। এটি প্রমাণ করে যে গরম পানি ব্যবহার করা ইসলামে অপছন্দনীয় বা বর্জিত নয়।
ফুকাহারা আরও উল্লেখ করেছেন, প্রচণ্ড শীতে যদি কেউ গরম পানি ব্যবহার করতে না পারেন, তবে ঠান্ডা পানি দিয়েও অজু করলে আল্লাহর পক্ষ থেকে বাড়তি সওয়াবের ঘোষণা রয়েছে। রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন।

