এস.এম. পারভেজ, ঝালকাঠি:
বাংলাদেশের আপোষহীন নেত্রী, বিএনপি চেয়ারপার্সন ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় ঝালকাঠিতে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে ঝালকাঠি সদর উপজেলার বিনয়কাঠি শের-ই-বাংলা ফজলুল হক কলেজ মাঠে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সাবেক সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরদার এনামুল হক এলিনের আয়োজনে এই দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য, গ্রাসরুট নেটওয়ার্কের লিড, দেশ গড়ার পরিকল্পনার অন্যতম সদস্য ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোস্তফা কামাল মন্টু এবং ঝালকাঠি-২ আসনের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, “আমাদের ম্যাডাম আজ আমাদের মাঝে নেই—এই বাস্তবতা ভাবতেই কষ্ট হয়। তিনি ছিলেন আপোষহীন নেত্রী, তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচনের মাঠে তিনি কখনো পরাজিত হননি। দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ে তিনি কখনো আপোষ করেননি।”
তিনি বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া স্পষ্টভাবে বলতেন—এই দেশ, এই দেশের মাটি ও মানুষই আমার সব। এই দেশেই আমি থাকবো, দেশের মানুষই আমার পরিবার। এই বিশ্বাস নিয়েই তিনি সারাজীবন রাজনীতি করেছেন। দেশ ও দেশের মানুষের তাঁর ত্যাগ ও অবদান এ দেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি তার পরিবারের কথা চিন্তা করেন নি, নিজের সন্তানদের কথা ভাবেন নি। তার মনপ্রাণ জুড়ে ছিল দেশ ও দেশের জনগণ।
ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, ১৯৮১ সালের ৩০ মে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর এক শোকাহত গৃহবধূ যেভাবে দৃঢ়চিত্তে রাজনীতির কঠিন পথে এগিয়ে আসেন, সেটিই ছিল বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। ১৯৮২ সাল থেকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি নিজেকে আপোষহীন নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
তিনি আরও বলেন, “১৯৯১ সালে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর শাসনামলে শিক্ষা বিস্তার, নারী শিক্ষা, গ্রাম উন্নয়ন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা ও অবকাঠামো উন্নয়নে বাংলাদেশ নতুন দিশা খুঁজে পায়।”
বেগম খালেদা জিয়ার মানবিক নেতৃত্বের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার সুযোগ বৃদ্ধি, নারী ক্ষমতায়নে বাস্তব উদ্যোগ এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ছিল তাঁর মানবিক দর্শনের প্রতিফলন। শিশুদের জন্য নিরাপদ ভবিষ্যৎ, নারীদের মর্যাদা ও অধিকার এবং সাধারণ মানুষের উন্নত জীবন নিশ্চিত করাই ছিল তাঁর রাজনীতির মূল দর্শন।”
ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, “ক্ষমতায় থেকেও তিনি সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন, আর ক্ষমতার বাইরে থেকেও গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও দেশের স্বার্থের প্রশ্নে কখনো আপোষ করেননি। দীর্ঘ কারাবাস, শারীরিক অসুস্থতা ও রাজনৈতিক নিপীড়নের মধ্যেও তিনি মাথা নত করেননি। এ দেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে তাঁর ত্যাগ ও অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। দেশের মাটি ও মানুষই ছিল বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতির মূল শক্তি।”
বিএনপির ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রপরিচালনার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আপনারা যদি বিএনপিকে রাষ্ট্রক্ষমতার দায়িত্ব দেন, আমরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন করবো। আমাদের নেতা তারেক রহমান বলেছেন—‘উই হ্যাভ এ প্ল্যান’। কৃষকের কার্ড, ফ্যামিলি কার্ডসহ নানা বাস্তবমুখী পরিকল্পনা প্রস্তুত রয়েছে। নতুন এক বাংলাদেশ আমরা উপহার দিবো।”
জনগণের সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কৃষি পণ্যের ন্যায্য দাম পাওয়া যাবে কি না, নিরাপদ ও সুপেয় পানি মিলবে কি না, পানিতে আর্সেনিক ও লবণাক্ততার সমাধান কী, নদী-খাল-বিলে মাছ কমে যাওয়ার কারণ কী, কোথাও চর পড়ে আবার কোথাও ভাঙন হচ্ছে—এই সব সমস্যার সমাধান নিয়েই আমরা এগোচ্ছি। জনগণ আমাদের দায়িত্ব দিলে এসব সমস্যার জ্ঞানভিত্তিক ও টেকসই সমাধান করা হবে ইনশাআল্লাহ।”
অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে দোয়া মাহফিলের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে বিশেষ মোনাজাতে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। একই সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানসহ বিএনপির প্রয়াত নেতৃবৃন্দের আত্মার শান্তি এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করা হয়।
দোয়া মাহফিল ঘিরে পুরো আয়োজনটি ছিল শান্তিপূর্ণ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পরিপূর্ণ। এতে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, আইনজীবীসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

