দেশজুড়ে জেঁকে বসেছে শীত। কনকনে এই ঠান্ডায় ঘরকে উষ্ণ ও আরামদায়ক রাখতে অনেকেই বেছে নিচ্ছেন রুম হিটার। তবে আপনার সামান্য অসাবধানতায় এই আরামদায়ক যন্ত্রটিই ডেকে আনতে পারে ভয়াবহ বিপদ। স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে শুরু করে অগ্নিকাণ্ড—রুম হিটারের ভুল ব্যবহার হতে পারে প্রাণঘাতী।
রুম হিটার কি আসলেও নিরাপদ? বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক নিয়মে ব্যবহার করলে রুম হিটার নিরাপদ, তবে এর কিছু মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। দীর্ঘক্ষণ হিটার চললে ঘরের বাতাসের আর্দ্রতা কমে যায়, যা ত্বক ও চোখের জন্য ক্ষতিকর। এছাড়া সস্তা বা নিম্নমানের হিটার অক্সিজেন পুড়িয়ে কার্বন মনোক্সাইড তৈরি করতে পারে, যা শ্বাসকষ্টের অন্যতম কারণ। এমনকি অসতর্কভাবে দাহ্য পদার্থের পাশে হিটার রাখলে ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড।
নিরাপদ থাকতে যা অবশ্যই করবেন: বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা হিটার চালানোর সময় ঘর পুরোপুরি বন্ধ না রেখে দরজা বা জানালা সামান্য ফাঁক রাখুন। এতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন চলাচল করতে পারবে এবং বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড জমার ঝুঁকি থাকবে না।
আর্দ্রতা বজায় রাখা: বাতাস অতিরিক্ত শুষ্ক হওয়া রোধ করতে হিটারের কাছে এক বাটি পানি রেখে দিন। এটি নাক, মুখ বা গলার অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করবে।
দূরত্ব বজায় রাখা: বিছানা, পর্দা বা আসবাবপত্র থেকে হিটারটি অন্তত ৩ ফুট দূরে রাখুন। ভুলেও হিটারের ওপর ভেজা কাপড় শুকাতে দেবেন না।
সঠিক সংযোগ: রুম হিটার প্রচুর বিদ্যুৎ টানে, তাই এটি সরাসরি দেয়ালের মেইন সকেটে লাগানো উচিত। মাল্টিপ্লাগ ব্যবহার করলে শর্ট সার্কিটের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
ঘুমের আগে সতর্কতা: সারারাত হিটার চালিয়ে ঘুমানো অত্যন্ত বিপজ্জনক। ঘুমানোর কিছুক্ষণ আগে রুম গরম করে হিটার বন্ধ করে দেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে প্রযুক্তি ব্যবহার করলেও সচেতনতাই হতে পারে আপনার বড় সুরক্ষা। হিটার কেনার সময় ‘অটো কাট-অফ’ ফিচার আছে কি না যাচাই করে নিন এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন।

