ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪(কসবা-আখাউড়া) আসনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বিএনপির সাবেক এমপি মুশফিকুর রহমান ও জেলা বিএনপির সদস্য কবীর আহমেদ ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জাহানের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে ওই দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। এ আসনে বিএনপির মনোনীত দুজন প্রার্থী দলের পক্ষ থেকে নানাভাবে তারা নির্বাচনী প্রচার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
তবে এ আসনে মূলত কে হচ্ছেন বিএনপি’র একক প্রার্থী বা কার হাতে উঠছে ধানের শীষের প্রতীক এ নিয়ে শহর, গ্রাম,হাট বাজার, দোকানপাট, অফিস, চা-স্টলসহ সর্বত্র আলোচনা ঝড় বইছে। তাছাড়া একই আসনে বিএনপির দুজন প্রার্থী থাকায় এবং দুজনের মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে এক প্রকার কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীরাও দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। দুই প্রার্থীর কর্মী সমর্থকরাই দাবি করছেন, তাদের প্রার্থীই দলীয় প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেবেন। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনা চলছে। এরপর থেকেই টক অব দ্যা টাউনে পরিনত কে হচ্ছেন বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী। কার হাতে উঠছে ধানের শীষের প্রতীক।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৩ নভেম্বর প্রথমে দলের প্রবীন নেতা সাবেক সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানকে মনোনয়ন দেয়া হয়। পরে একই আসন থেকে ২০ ডিসেম্বর সংযুক্তি-২ মনোনয়ন ফরমে জেলা বিএনপির সদস্য কবীর আহমেদ ভূঁইয়াকে দলের হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে মনোনয়নপত্র দেয়া হয়। দুজনই বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার লক্ষ্যে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তবে, নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী দলীয় প্রতীক ‘ধানের শীষ’ একজন প্রার্থীই পাবেন।
জানা গেছে, আগামী ১৯ জানুয়ারি প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। ২০ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ। এসময়ের মধ্যে কেউ একজন প্রার্থীতা প্রত্যাহার করলে অপরজন বিএনপির দলীয় প্রতীক পাবেন। তাছাড়া বিএনপির হাই কমান্ড যে প্রার্থীকে ধানের শীষ প্রতীক দেওয়ার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবরে চিঠি দিবেন তাকেই ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দিবেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। বিএনপির এই চিঠিই সকল জল্পনা কল্পনা অবসান ঘটাতে পারে। তবে কে পাচ্ছেন দলীয় প্রতীক না নিয়ে সর্বত্র আলোচনার ঝড় বইছে।
এদিকে স্থানীয় ভোটারদের একাংশ মনে করেন, এই পরিস্থিতিতে দলের ঐক্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যার সুযোগ নিতে পারে প্রতিপক্ষ দলের প্রার্থীরা। কারণ প্রার্থী চূড়ান্ত হতে যত বেশি বিলম্ব হবে ততই বিভেদ বাড়বে। ভোটাররাও বিভ্রান্ত হবে।
মো: মুর্শেদ মিয়া নামে দলের এক কর্মী বলেন, বিএনপি যে কোন কারণেই দুজনকে মনোনয়ন দিয়েছে। এখন যেহেতু দুজনের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। দ্রæত একজন করে দিলেই ভালো হবে। নেতাকর্মীরাও ঐক্যবদ্ধ হয়ে একজননের পক্ষে কাজ করতে পারবে। সাধারণ মানুষের বিভ্রান্তি দূর হয়ে যাবে। তা না হলে বড় ধরনের খেসারত দিতে হবে।
সাধারণ ভোটার মো: আজমল হোসেন বলেন, প্রার্থী নির্ণয়কে কেন্দ্র করে আমরা অনেকটাই বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েছি। আমরা না এদিকে যেতে পারছি না ওদিকে যেতে পারছি। যার হাতে ধানের শীষ নিরাপদ তাকে দল থেকে দ্রæত প্রার্থী ঘোষণা করে দিলে আমরা বেঁচে যাই। ভোটের মাঠে কাজ করতে সুবিধা হয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মুশফিকুর রহমানের ঘনিষ্ঠজন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল মনসুর মিশন বলেন, সারাদেশে ১৮ টি আসনে প্রথম মনোনয়ন প্রাপ্ত প্রার্থীর সাথে বিকল্প হিসেবে আরও একজন প্রার্থী রেখেছে বিএনপি। এ আসনের প্রথম মনোনয়ন প্রাপ্ত মুশফিকুর রহমানের মনোনয়ন বৈধ হওয়ায় তিনিই ধানের শীষ প্রতীক পাবেন বলে আশা করি। আগামী ৩/৪ দিনের মধ্যে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
আখাউড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডাঃ খোরশেদ আলম বলেন, কবীর আহমেদ ভূইয়ার ত্যাগের মূল্যায়ণ করে দল তাঁকে ২য় মনোনয়ন দিয়েছে। এজন্য প্রথম মনোনয়নের কার্যকারিতা নাই। আশা করি দল কবীর আহমেদ ভূইয়াকে ধানের শীষ প্রতীক দিবেন।
জেলা বিএনপি সদস্য এবং দ্বিতীয় ধাপে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কবীর আহমেদ ভূইয়া জানান, আমি দীর্ঘদিন ধরে মাঠে নিপীড়িত কর্মীর পাশে ছিলাম। দল আমাকে মূল্যায়ন করেছে। অগণিত নেতাকর্মী দলের হাইকমান্ডের দিকে তাকিয়ে আছে। ধানের শীষের প্রতীক আমি পাব এমটাই বিশ্বাস করছি।
সাবেক সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান বলেন, আপদকালীন সময়ের জন্য সংযুক্তি-২ উল্লেখ করে বিকল্প আরেক জনকে মনোনয়ন দেয়া হয়। আমার মনোনয়নপত্রটি বৈধ হয়েছে। আমি বিশ^াস করি দল আমাকে মূল্যায়ন করে প্রতীকও আমাকে দিবেন। সময় হলে তা দেখবেন।
