রাজু রহমান, জেলা প্রতিনিধি:
কনকনে হাড় কাঁপানো শীতের প্রকোপে জমে উঠেছে ফুটপথের কমদামী গরম কাপড়ের দোকান। শীতার্ত মানুষের উপচে পড়া ভিড় এসব দোকান গুলোতে। কেউ দেখছে, কেউ দরদাম করছে, কেউ কিনছে,কেউ এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরছে পছন্দের গরম কাপড়ের জন্য। এভাবেই সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ক্রেতার সাথে কথোপকথন ও বিক্রিতে ব্যস্ত দোকানিরা।
যশোরের শার্শার উপজেলার ছোট বড় সব বাজার গুলোতে এখন ভ্রাম্যমান গরম কাপড়ের দোকানিদের দেখা মিলছে। দোকান গুলোতে রয়েছে বিভিন্ন বয়সের,বিভিন্ন শ্রেণির ক্রেতার উপচে পড়া ভিড়। ধনী-গরীব, হতদরিদ্র, ছিন্নমূল শ্রেণীর মানুষ তাদের পছন্দের গরম কাপড় ক্রয় এর জন্য ভীড় জমাচ্ছে এ সমস্ত দোকানে। ব্যবসায়ীরাও বেশ খুশি তারা বলছেন,প্রচন্ড শীতের প্রকোপ দিশেহারা নিন্ম আয়ের মানুষ। তারা কনকনে শীত থেকে বাঁচার জন্য চুটে আসছেন এসব দোকানগুলোতে। সেক্ষেত্রে আমাদের বেঁচা বিক্রি যথেষ্ট ভালো তবে যদি শীতের ভিতরে দু একটা শৈত্য প্রবাহ আসে তাহলে বেচার বিক্রি আরো বেড়ে যেতে পারে।
নাভারণ, শার্শা, বাগআঁচড়া, বেনাপোল,উলাশী, বাজারের কয়েকজন ভ্রাম্যমান কাপড় ব্যবসায়ীর সাথে কথা হলে তারা জানান, তুলনামূলক অন্যান্য বছরে তুলনায় আমাদের বেচাকেনা ভালো হচ্ছে। পোশাকগুলো পুরাতন হলেও ব্যবহারের উপযোগী হওয়ায় ক্রেতা কেনার আগ্রহ প্রকাশ করছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় দামের তারতম্য থাকলেও সেটা খুব বেশি নয়।
অন্যদিকে ক্রেতারা ভিন্নমত পোষণ করে বলছেন, পুরাতন কাপড় হিসেবে দোকানিরা কয়েক গুণ বেশি দাম হাঁকছেন।যেটা আমাদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। সে কারণেই বেশিরভাগ ক্রেতা দেখছেন কিন্তু কিনতে না পেরে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। ক্রেতাদের আশা দোকানিরা হয়তো দাম কমাবে এবং তখন তারা পছন্দের জিনিসটি ক্রয় করতে পারবেন।
বেনাপোলের রমজান,বাগআঁচড়ার তহমিনা,শাকিলা,শার্শার শওকত আলী,আবু হানিফ,উলাশীর শাকিল,আসাদ,নাভারণের জসিম,হাবিব,জাকির,মাহবুব সহ কয়েকজন ক্রেতার সাথে কথা হলে তারা বলেন,মধ্যবিত্ত শ্রেণির ও হত দরিদ্র মানুষেষ জন্য এসব মার্কেটের বিকল্প নেই।
নামি দামি মার্কেট গুলোতে গরম পোষাকের দাম অনেক বেশি। যেটা কেনার সামর্থ আমাদের অনেকেরই নেই।তাছাড়া দেখে বুঝে কিনতে পারলে এখানেও সুন্দর সুন্দর পোষাক পাওয়া যায়। তবে দামের ব্যাপারে ক্রেতাদের একটু ক্ষোভ রযেছে।তারা বলছেন দোকানিরা সিজনের ব্যবসা হিসাব করে কয়েক গুণ বেশি দাম চাইছেন। ক্রেতাদের যার যেমন সামর্থ সে তেমন ভাবে কিনছে।
মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র শ্রেণীর ক্রেতা বেশি লক্ষ্য করা যায় এ ভ্রাম্যমান দোকানগুলোতে কিনতে আসা ক্রেতারা বলেন, মার্কেটের বড় বড় দোকান গুলোতে গরম কাপড়ের দাম আকাশচুম্বী। দুই থেকে ৫ হাজার টাকার নিচে কোন পোশাক মিলবে না। যেটা সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। অন্যদিকে এ সমস্ত দোকান গুলোতে অনেক ভালো মানের পোশাক ৫০ টাকা থেকে ৫ শত টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। সে কারণেই এসব দোকানে ক্রেতার উপস্থিতি অনেক বেশি।
এসব দোকান গুলোতে রয়েছে বিভিন্ন বয়সের পুরুষ ও মহিলাদের কোর্ট, শার্ট, প্যান্ট, চাদর, গেঞ্জি, সোয়েটার, জ্যাকেট, কম্বল,মোজা,মাফলার,টুপিসহ নানা ধরনের পোশাক। খেটে খাওয়া হতদরিদ্র মানুষ ও মধ্যবিত্তদের শেষ ভরসা এসব ফুটপথের দোকান। শীতের প্রকোপে বেচাকেনা বেশ ভালো তবে আরো দুই একটা শৈত প্রবাহ হলে বেচাবিক্রি আরো বাড়বে এমন প্রত্যাশা ফুটপাতের এসব ব্যবসায়ীদের।

