জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে দাফন করা ১১৪ জন শহীদের পরিচয় শনাক্তে কাজ শুরু করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ডিএনএ নমুনা বিশ্লেষণ ও ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে ইতিমধ্যে আটজন শহীদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি, ২০২৬) সকালে সিআইডি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
শনাক্ত হওয়া ৮ শহীদ হলেন:
১. শহীদ ফয়সাল সরকার ২. শহীদ পারভেজ বেপারী ৩. শহীদ রফিকুল ইসলাম (৫২) ৪. শহীদ মাহিম ৫. শহীদ সোহেল রানা ৬. শহীদ আসানুল্লাহ ৭. কাবিল হোসেন ৮. রফিকুল ইসলাম (২৯)
২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় নিহত অনেককে পরিচয় না পাওয়ায় মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার কবরস্থানে অজ্ঞাত হিসেবে দাফন করা হয়েছিল।
আদালতের নির্দেশ: গত ৪ আগস্ট ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান ময়নাতদন্ত ও পরিচয় শনাক্তের জন্য লাশ উত্তোলনের নির্দেশ দেন। মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক মাহিদুল ইসলাম এই আবেদন করেছিলেন। আদালতের নির্দেশে গত ৭ ডিসেম্বর থেকে রায়েরবাজার কবরস্থানে আন্তর্জাতিক প্রটোকল (মিনেসোটা প্রটোকল) মেনে লাশ উত্তোলনের কাজ শুরু হয়।
সিআইডির ফরেনসিক ও ডিএনএ টিম এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আন্তর্জাতিক ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ লুইস ফনডিব্রাইডারের নেতৃত্বে এবং আর্জেন্টিনার ফরেনসিক টিমের সহযোগিতায় ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করা হচ্ছে। সিআইডি জানায়, নিহতদের স্বজনদের কাছ থেকে সংগৃহীত ডিএনএ নমুনার সঙ্গে কবরের লাশের নমুনা মিলিয়ে এই পরিচয় নিশ্চিত করা হচ্ছে। বাকিদের পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।

