আজ ভোর ৪টা ৪৭ মিনিটে এক শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে রাজধানী ঢাকা ও দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলো। রিখটার স্কেলে ৫.২ মাত্রার এই ভূমিকম্পে ঘুমন্ত মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কম্পন স্থায়ী ছিল মাত্র কয়েক সেকেন্ড, তবে এর তীব্রতায় অনেকেই ঘর ছেড়ে দ্রুত রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।
আন্তর্জাতিক ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের আসাম রাজ্যের ধিং এলাকা থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। গাণিতিকভাবে এর অবস্থান ছিল ২৬.৪৭০ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯২.৪৩৮ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। কেন্দ্রস্থলটি আসামের ধিং শহর থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার পশ্চিমে এবং রাজধানী গুয়াহাটি থেকে ৭৬ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর পাশাপাশি বাংলাদেশের সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগেও এই কম্পন বেশ জোরালোভাবে অনুভূত হয়েছে। ভোরের দিকে এই কম্পনে ঘরবাড়ির আসবাবপত্র ও দরজা-জানালা কেঁপে উঠলে মানুষের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। তবে এখন পর্যন্ত এই ভূমিকম্পে দেশের কোথাও কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য যে, এর আগে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর মধ্যরাতে সিলেটে মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে দুইবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলে ঘনঘন ভূমিকম্পের ঘটনায় ভূতাত্ত্বিকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এই এলাকাটি বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
আজকের ভূমিকম্পের পর ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে। কোনো দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে।

