৪ জানুয়ারি – সদ্যসমাপ্ত ২০২৫ সালে দেশে ৬ হাজার ৭২৯টি সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। এতে ৯ হাজার ১১১ জন নিহত এবং ১৪ হাজার ৮১২ জন আহত হয়েছেন।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি রোববার (৪ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, মোট দুর্ঘটনার মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার সংখ্যা ২ হাজার ৪৯৩টি, যা মোট দুর্ঘটনার ৩৭.০৪ শতাংশ। এই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ৯৮৩ জনের, আহত হয়েছেন ২ হাজার ২১৯ জন।
সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, ২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনা ২০২৪ সালের তুলনায় ৬.৯৪ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়েছে ৫.৭৯ শতাংশ এবং আহতের সংখ্যা বেড়েছে ১৪.৮৭ শতাংশ।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যালোচনায় প্রকাশ, সড়ক, রেল ও নৌ-পথে সর্বমোট ৭ হাজার ৩৬৯টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৯ হাজার ৭৫৪ জন নিহত ও ১৫ হাজার ৯৬ জন আহত হয়েছেন। রেলপথে ৫১৩টি দুর্ঘটনায় ৪৮৫ জন নিহত ও ১৪৫ জন আহত হন। নৌ-পথে ১২৭টি দুর্ঘটনায় ১৫৮ জন নিহত, ১৩৯ জন আহত এবং ৩৮ জন নিখোঁজ হয়েছে।
মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী জানান, এসব দুর্ঘটনায় বছরে আর্থিক ক্ষতি ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি। তিনি আসন্ন সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দলের কাছে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমানোর অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান।
সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, ১ হাজার ২৮৮টি যানবাহনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৪.৪৯ শতাংশ বাস, ২২.৬০ শতাংশ ট্রাক-পিকআপ-কভার্ডভ্যান ও লরি, ৫.৮৫ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাস, ৬.৬৩ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ২৮.৪৮ শতাংশ মোটরসাইকেল, ১৩.৫৪ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক এবং ৮.৩৮ শতাংশ নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা। তিনি বলেন, মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দুর্ঘটনা ভয়াবহভাবে বেড়েছে।
দুর্ঘটনার ধরণ অনুযায়ী, ৪৮.৮৪ শতাংশ পথচারী চাপা, ২৬ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৮.৬৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ০.৪৪ শতাংশ যানবাহনের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে, ০.৬৮ শতাংশ ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষ এবং ৫.৩৭ শতাংশ অন্যান্য কারণে ঘটেছে।
এছাড়া, দুর্ঘটনার ৩৮.২২ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ২৭.১৩ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২৮.৮৩ শতাংশ ফিডার রোডে এবং শহরাঞ্চলে ৪.২২ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ০.৯০ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে, ০.৬৮ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে ঘটেছে।
মোজাম্মেল হক চৌধুরী জানান, ছোট যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি ও অবাধ চলাচলের কারণে জাতীয় মহাসড়কে ২.৫৫ শতাংশ ও আঞ্চলিক মহাসড়কে ৫.৪৭ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে।

