দিনাজপুর প্রতিনিধি :
দিনাজপুর বোচাগঞ্জে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজির চেষ্টা করার সময় উপজেলা এনসিপির আহ্বায়কসহ ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (৪ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন গ্রেপ্তার ও মামলা দায়েরর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানায়, গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বোচাগঞ্জ উপজেলার ইশানিয়া ইউনিয়নের বারেয়া এলাকায় সন্তোষ কুমার রায়ের বসতবাড়িতে গিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে চাঁদা দাবি করে। এ সময় বাধা দিলে সন্তোষ কুমার রায়কে মারধর করা হয়।
একপর্যায়ে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে ‘ডাকাত, ডাকাত’ বলে চিৎকার করলে অভিযুক্তদের একজন এনসিপির নেতা মনজুরুল আলম (৩৬)কে জনতা আটক করে অন্যরা কৌশলে পালিয়ে যায়। পরে উত্তম মাধ্যম দেওয়ার একপর্যায়ে আটক মনজুরুল আলম তার সহযোগী হিসেবে এনসিপির আহবায়ক তাফসীর হাসানের নাম প্রকাশ করেন।
পুলিশ কৌশলে তাফসীর হাসানকে থানায় ডেকে এনে মনজুরুল আলমের মুখোমুখি করলে তিনি চাঁদাবাজির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সন্তোষ কুমার রায় (৪০) বোচাগঞ্জ থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন।
এম. এ. তাফসীর হাসান (৩৩), সেতাবগঞ্জ পৌরসভা এলাকার ধনতলা কলেজ মোড় এলাকার শমসের আলীর ছেলে এবং বোচাগঞ্জ উপজেলা এমসিপি আহবায়ক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন।
মো. মনজুরুল আলম (৩৬) একই এলাকার আব্দুল কাদিরের ছেলে। তিনিও এনসিপির সক্রিয় সদস্য বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় আরো ৭-৮ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করা হয়েছে
পুলিশ অভিযানে অভিযুক্তদের কাছ থেকে একটি লোহার পাইপ, একটি স্টিলের লাঠি (স্পিন্ডল ব্যাটন), কালো রঙের এক জোড়া বুট জুতা, সেনাবাহিনীর পোশাকের সাদৃশ একটি ফুল প্যান্ট, একটি কালো রঙের মিনি ক্যামেরা (মেমোরি কার্ডসহ), একটি মোটরসাইকেল, একটি স্মার্টফোন ও একটি বাটন মোবাইল উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় বোচাগঞ্জ থানায় এফআইআর নং–২ (তারিখ: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬) ও জিআর নং–২ হিসেবে মামলা রুজু করা হয়েছে।
মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে বোচাগঞ্জ থানার এসআই প্রদীপ চন্দ্র রায়ের ওপর।
তিনি জানান, মামলাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং গ্রেপ্তারকৃত দুইজনকে আদালতের মাধ্যমে দিনাজপুর জেলা কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
