শীতকাল এলেই তাপমাত্রা কমে যায়, বাতাসে আর্দ্রতা কমে যায় এবং পরিবেশ হয়ে ওঠে শুষ্ক। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ত্বকে। বিশেষ করে শিশুদের ত্বক বড়দের তুলনায় অনেক বেশি সংবেদনশীল হওয়ায় শীতকালে তাদের ত্বক দ্রুত শুষ্ক হয়ে যায়। এতে দেখা দিতে পারে খসখসে ভাব, টান ধরা বা চুলকানির মতো সমস্যা।
ডার্মাটোলজিস্ট ও কসমেটিক সার্জনরা জানান, শিশুদের ত্বক খুবই পাতলা এবং সংবেদনশীল। শীতের শুষ্ক বাতাসে ত্বক দ্রুত পানি হারায়। গোসলের পর সঙ্গে সঙ্গে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার না করলে শুষ্কতা আরও বেড়ে যায়।
শীতকালে কিছু অভ্যাস শিশুর ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। দীর্ঘক্ষণ গরম পানিতে গোসল করানো, অতিরিক্ত কাপড় পরানো বা ঘর গরম রাখতে হিটার ব্যবহার করা ত্বককে আরও শুষ্ক ও খসখসে করে।
শিশুর ত্বক সুরক্ষায় বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন:
গোসলের সময় হালকা, কুসুম গরম পানি ব্যবহার করা এবং সময়সীমা ৫–১০ মিনিট রাখা।
গোসলের পর মানসম্মত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা।
হালকা, শ্বাসপ্রশ্বাসযোগ্য ও ১০০% কটনের পোশাক পরানো।
ঘরে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা বজায় রাখতে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করা।
বেবিকেয়ার ব্র্যান্ড Cutestory-এর প্রতিষ্ঠাতা জানান, অভিভাবকরা বর্তমানে শিশুর ত্বক সুরক্ষায় আরও সচেতন হচ্ছেন। তারা ফ্র্যাগরেন্স-ফ্রি ও pH-নিউট্রাল ক্লিনজার ব্যবহার করছেন, গোসলের সময় কমিয়ে এনেছেন এবং নরম কটনের পোশাককে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। ঘরের আর্দ্রতা ৪০–৬০ শতাংশে রাখার জন্য হিউমিডিফায়ারের ব্যবহারও বেড়েছে।
শীতকালে একটু বাড়তি যত্ন নিলে শিশুর ত্বক থাকবে সুস্থ, নরম ও সুরক্ষিত।

