ঢাকা থেকে করাচিতে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পেয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। পাকিস্তানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএ) আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের মাধ্যমে এই ছাড়পত্র দিয়েছে। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম সামা নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।
সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, নতুন বছরের শুরুতেই এই সিদ্ধান্তকে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে আকাশপথে যোগাযোগ বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো বলে মন্তব্য করেছে তারা।
সূত্রের বরাতে জানা গেছে, পাকিস্তান সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর সিএএ ঢাকা–করাচি রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেয়। প্রাথমিকভাবে এই অনুমোদন ২০২৬ সালের ৩০ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তীতে অনুমোদন পুনর্বিবেচনার সুযোগ রাখা হয়েছে।
অনুমোদনপত্র অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশকে নির্ধারিত ও অনুমোদিত রুট ব্যবহার করে পাকিস্তানের আকাশসীমা অতিক্রম করতে হবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত রুট কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে পাকিস্তানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।
এ ছাড়া করাচির জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশের জন্য নির্দিষ্ট একটি টাইম স্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ফ্লাইট পরিচালনার আগে করাচি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে ফ্লাইটের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সরবরাহ, অপারেশনাল সমন্বয় নিশ্চিত করা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত সব শর্ত পূরণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানের বিমান চলাচল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঢাকা ও করাচির মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালু হলে দুই দেশের জনগণ সরাসরি উপকৃত হবে। এতে যাত্রা সহজ হবে, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়বে এবং ব্যবসা ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।
দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি আকাশ যোগাযোগ চালুর এই উদ্যোগকে আঞ্চলিক সংযোগ জোরদারের একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

