ইরানে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্প লিখেছেন, “যদি ইরান শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের গুলি করে এবং সহিংসভাবে হত্যা করে—যা তাদের রীতি—তাহলে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করবে। আমরা প্রস্তুত অবস্থায় আছি। প্রয়োজন হলে এগিয়ে যাব। এই বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।”
আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের বিভিন্ন শহরে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ফার্স নিউজ এজেন্সি ও মানবাধিকার সংগঠন হেঙ্গাও জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের চাহারমহল ও বাখতিয়ারি প্রদেশের লর্ডেগান শহরে দুইজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। এছাড়া আজনা শহরে তিনজন এবং কুহদাশত এলাকায় একজন নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
ফার্স নিউজ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার লর্ডেগান এলাকায় ১৫০ জনের বেশি মানুষ জড়ো হয়ে সরকারবিরোধী স্লোগান দেন এবং কয়েকটি সরকারি ভবনে পাথর নিক্ষেপ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হস্তক্ষেপ করলে সংঘর্ষ শুরু হয়।
ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, পুলিশের হস্তক্ষেপের পর কিছু বিক্ষোভকারী নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর গুলি চালায়। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। সংঘর্ষের সময় দুইজন বিক্ষোভকারী নিহত হন বলেও তিনি জানান।
ইরানে চলমান এই অস্থিরতা শুরু হয় মূলত অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে। গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের বাজারে বিদেশি মুদ্রার বিপরীতে ইরানি রিয়ালের ব্যাপক দরপতন হলে বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বেকারত্ব ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ নতুন করে বিস্ফোরিত হয়েছে।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জনসাধারণের অসন্তোষের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের দায় সরকার এড়াতে পারে না। একই সঙ্গে তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যার জন্য যুক্তরাষ্ট্রসহ বহিরাগত শক্তির ওপর দায় চাপানো থেকে বিরত থাকতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ ও যুক্তরাষ্ট্রের কড়া হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে আন্তর্জাতিক মহল।
