ইরানে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে চলমান বিক্ষোভে এ পর্যন্ত অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ‘লকড অ্যান্ড লোডেড’ অবস্থায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—যার প্রতীকী অর্থ, যেকোনো জবাব দিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত।
শুক্রবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “ইরান যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালায় এবং সহিংসভাবে হত্যা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র উদ্ধারে এগিয়ে যাবে।” একই পোস্টে তিনি আরও বলেন, “আমরা যাওয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত—লকড অ্যান্ড লোডেড।”
বৃহস্পতিবার ইরানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক স্থবিরতার প্রতিবাদে গত রোববার রাজধানী তেহরানে দোকানদাররা ধর্মঘট শুরু করেন। পরে এই আন্দোলন দেশের অন্যান্য এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ে।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স জানায়, চাহারমাহাল ও বাখতিয়ারি প্রদেশের লোরদেগান শহরে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে দুজন নিহত হন। পাশের লোরেস্তান প্রদেশের আজনা শহরে নিহত হয়েছেন আরও তিনজন।
এর আগে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কুহদাশতে রাতভর চলা বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্য নিহত হন। তিনি বাসিজ বাহিনীর সদস্য ছিলেন। বাসিজ হলো ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত একটি স্বেচ্ছাসেবী আধা-সামরিক বাহিনী, যা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের আদর্শিক শক্তির অংশ।
এদিকে ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম গত বুধবার জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপভিত্তিক ইসলামি প্রজাতন্ত্রবিরোধী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে কর্তৃপক্ষ। তাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকে সহিংসতায় রূপ দেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তারের সুনির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২২ সালে ইরানে বড় ধরনের বিক্ষোভ দেখা যায়। সে বছর নারীদের পোশাকবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রেপ্তার মাশা আমিনি পুলিশ হেফাজতে মারা গেলে দেশজুড়ে ব্যাপক আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। ওই আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ কয়েকশ মানুষ নিহত হন।

