গাজা উপত্যকায় কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিবর্ষণে এক ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) উত্তর গাজার জাবালিয়া আল-নাজলা শহরে। চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা আনাদোলু এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নিহত শিশুটির বয়স মাত্র ১১ বছর। একই দিনে গাজার বিভিন্ন স্থানে আরও অন্তত চারজন ফিলিস্তিনি গুরুতর আহত হন। গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক হামলার ফলে হতাহতের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান, যা চলমান শান্তি প্রক্রিয়াকে গভীর সংকটের মুখে ফেলেছে।
জাবালিয়ায় প্রাণহানির পাশাপাশি দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহরের নেমসাউই কবরস্থানের আশেপাশেও ইসরায়েলি বাহিনী বেপরোয়া গুলিবর্ষণ চালায়। এতে এক শিশু ও এক নারীসহ চারজন আহত হন এবং তাদের নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সে জরুরি চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
গাজার সরকারের মিডিয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪১৬ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১,১১০-এর বেশি মানুষ আহত হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া দুই বছরের দীর্ঘ যুদ্ধে নিহতের মোট সংখ্যা বর্তমানে ৭১,০০০ ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে বিপুল সংখ্যক নারী ও শিশু। আহতের সংখ্যা ১,৭১,০০০-এর বেশি।
ইসরায়েলি হামলার পাশাপাশি গাজার অভ্যন্তরীণ মানবিক বিপর্যয় পরিস্থিতিকেও আরও জটিল করে তুলেছে। গাজা সিটির আল-দারাজ এলাকার আল-ইয়ারমুক আশ্রয়শিবিরে গত রাতে একটি তাঁবুতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এক ফিলিস্তিনি মা ও তার শিশু সন্তানের মৃত্যু ঘটে। দীর্ঘস্থায়ী হামলার কারণে গাজার অধিকাংশ আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় লাখ লাখ মানুষ এখন অস্থায়ী তাঁবুতে বসবাস করছেন, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
তীব্র জ্বালানি সংকট এবং বিদ্যুৎহীনতার কারণে রান্নাবান্না ও শীত নিবারণের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের সময় প্রায়ই এই তাঁবুতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যা সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে।

