উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। পৌষের মাঝামাঝি সময়ে হিমালয় থেকে আসা হিমশীতল বাতাসের প্রভাবে জেলার বিভিন্ন এলাকায় কনকনে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। সন্ধ্যা নামার পর থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকছে চারপাশ।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত দুই দিন ধরে পঞ্চগড়ের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে ভোর ৬টায় তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভোর থেকেই ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকে পুরো জেলা। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক যান চলাচল। প্রধান সড়কগুলোতে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলতে দেখা যায় যানবাহনকে। তীব্র ঠান্ডার কারণে সকালবেলায় রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচলও কম ছিল। তবে সকাল ৯টার পর কুয়াশা কিছুটা কেটে গেলে সূর্যের দেখা মেলে, এতে জনজীবনে সাময়িক স্বস্তি ফিরে আসে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ওইদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শুক্রবার সকালে তাপমাত্রা আরও কমে ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রিতে নেমে আসে। এ সময় বাতাসের আদ্রতা ছিল ৯৪ শতাংশ এবং বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোনো এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। ৬ দশমিক ১ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মাঝারি, ৪ দশমিক ১ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তীব্র এবং ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামলে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়।

