প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী কনকচাঁপা বলেছেন, “এই জীবন বয়ে বেড়ানো অসম্ভব রকম কঠিন, যা আমরা কল্পনাও করতে পারি না।” তার এই অনুভূতি তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে যুক্ত করেছেন।
ফেসবুকে খালেদা জিয়াকে নিয়ে একটি আবেগঘন পোস্টে কনকচাঁপা লিখেছেন, “বারবার তার নামের সঙ্গে ‘আপসহীন’ শব্দটি উচ্চারিত হয়। আমরা এর অর্থ জানি, কিন্তু বোঝা কতটা সম্ভব! খালেদা জিয়ার জীবনে কেউ অন্যায় বা স্বার্থপরতার জন্য আপস করতে পারেননি। দেশের মানুষের কল্যাণ, সংসার, সন্তান ও দেশের প্রতি দায়বদ্ধতার মধ্যে তিনি বিলাসী জীবন ও আরামের তেমন কোনো খোঁজ নেননি।”
কনকচাঁপা আরও উল্লেখ করেছেন খালেদা জিয়ার অসুস্থতা এবং তার জীবনে আসা প্রতিকূলতার কথা। তিনি বলেন, “একটি মিথ্যা মামলার কারণে তিনি শান্তিপূর্ণ জীবন শেষ করতে পারেননি। ধীরে ধীরে তাকে শেষ করার চেষ্টা করা হয়েছে, আর আমরা তা নিরাশ হয়ে দেখেছি। পুরাতন জেলখানায় একাকী কাটানো তার দিনগুলো ভাবলে আমার রাতের ঘুম ছিন্ন হয়ে যেত। অথচ তিনি ছিলেন নির্ভার—অকুতোভয়। এজন্যই আমি তাঁকে বলি মৃত্যুঞ্জয়ী মহামানব।”
তিনি আরও বলেন, “খালেদা জিয়ার স্পষ্ট বার্তা ছিলো—যা কিছু হোক, এই দেশ ও দেশের মানুষকে তিনি কখনও ছেড়ে যাবেন না। দেশপ্রেমের নিখুঁত উদাহরণ তিনি। তিনিই প্রকৃত রাজনীতিবিদ এবং খাঁটি দেশনেত্রী। আমাদের লজ্জা বোধ হওয়ার কিছু নেই যে আমরা তাকে যথাযথ মর্যাদা দিতে পারিনি। আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদৌসে স্থায়ী বাসিন্দা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই দুঃখ সহ্য করার শক্তি দেন।”
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ৪০ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার ভোর ছয়টায় ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শোকবিস্তার কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। রাজনীতিবিদ, শিল্পী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শোক প্রকাশ করছেন।
নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ৪১ বছর ধরে বিএনপির নেতৃত্ব, পাঁচবারের সংসদ সদস্যপদ, তিনবার প্রধানমন্ত্রী হওয়া এবং দুইবার বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন—সব মিলিয়ে খালেদা জিয়া ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে ইতিহাসে অম্লান হয়ে রয়েছেন।

