বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে অবস্থিত শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করেন। কবর জিয়ারতের সময় তিনি ফুল অর্পণ করে হাদিসহ সকল জুলাই শহীদদের জন্য দোয়া করেন। পাশাপাশি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরেও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
বেলা পৌনে ১১টার দিকে গুলশানের বাসা থেকে রওনা হন তারেক রহমান। বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে জানানো হয়, তিনি ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন। আগের দুই দিনের মতো লাল–সবুজ রঙে সাজানো বাস ব্যবহার না করে সাদা রঙের গাড়ি ব্যবহার করা হয়, যা ফুল দিয়ে সজ্জিত ছিল।
রাস্তায় দুপাশে বিএনপির নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি চোখে পড়ার মতো ছিল। তার আগমনকে ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। টিএসসি থেকে হাদির কবর পর্যন্ত দুই স্তরের ব্যারিকেড বসানো হয়, এবং শাহবাগ দিকেও পুলিশের ব্যারিকেড ও নজরদারি ছিল।
এর আগে সূর্যাস্তের আগে নিয়ম অনুযায়ী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা তার পক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। উপস্থিত ছিলেন বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিল সদস্য আমানউল্লাহ আমান, লুৎফুজ্জামান বাবর, ঢাকা জেলা বিএনপি সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক, সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, ডা. দেওয়ানা মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, তমিজউদ্দীন, ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ, আইয়ুব খান, মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবরসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।
বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, তারেক রহমানের আগমন সামনে রেখে সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় পূর্ণ প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। পুরো প্রাঙ্গণ সাজানো হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। আশপাশের এলাকায় সাধারণ চলাচল নিয়ন্ত্রিত রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্মৃতিসৌধ কমপ্লেক্স পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয় এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের এক হাজারেরও বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৭ বছর পর গত বৃহস্পতিবার লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। তাঁর প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে ঢাকায় বিএনপির নেতা-কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত সংবর্ধনা সমাবেশে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দলীয় প্রার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

