যাত্রী ওঠার ঠিক আগমুহূর্তে সেন্টমার্টিনগামী পর্যটকবাহী জাহাজ ‘দ্যা আটলান্টিক ক্রুজ’-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে জাহাজটির এক কর্মচারী আগুনে পুড়ে নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার সময় জাহাজের ক্রুসহ মোট ১৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল ৭টার দিকে কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাট সংলগ্ন বাঁকখালী নদীতে নোঙর করা অবস্থায় জাহাজটিতে আগুন লাগে বলে নিশ্চিত করেছে সি ক্রুজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (স্কোয়াব)।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, নিহত কর্মচারীর নাম নূর কামাল (২৫)। তিনি টেকনাফ উপজেলার বাসিন্দা এবং জাহাজটির কর্মরত কর্মচারী ছিলেন।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, অগ্নিকাণ্ডের চার ঘণ্টা পার হলেও দুটি ইউনিটের চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। আগুনের তীব্রতায় জাহাজটির একটি অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেন্টমার্টিনগামী পর্যটকদের তুলতে ঘাটে ভেড়ার ঠিক আগমুহূর্তে জাহাজটির ভেতর থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় স্থানীয়রা ট্রলার ও স্পিডবোটের সহায়তায় জাহাজে থাকা ক্রুদের উদ্ধার করেন।
স্কোয়াবের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, প্রতিদিনের মতো সকাল ৭টার দিকে পর্যটক তুলতে আসার সময় হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন নেভাতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সময় লাগে।
এ ঘটনায় সেন্টমার্টিনগামী পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জাহাজটিতে প্রায় ২০০ জন যাত্রী ওঠার কথা থাকলেও এর মধ্যে ১২০ জনকে বিকল্প তিনটি জাহাজে পাঠানো হয়। বাকি যাত্রীরা রোববার সেন্টমার্টিন যেতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিকেলে জাহাজ মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, কক্সবাজার–সেন্টমার্টিন নৌপথে প্রতিদিন ছয়টি পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করে।

