কম্বোডিয়ার জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, থাইল্যান্ডের বিমান বাহিনী শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে। বোমাবর্ষণের পাশাপাশি থাই বাহিনী ট্যাঙ্ক ও সাঁজোয়া যান নিয়ে কম্বোডিয়ার বান্তে মিঞ্চে প্রদেশের চৌক চে গ্রামে প্রবেশ করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
দেশটির জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল মালি সোচেতা বলেন, শুক্রবার ভোরে থাইল্যান্ডের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান চৌক চে এলাকায় একের পর এক হামলা চালায়। এসব হামলায় গ্রাম এলাকায় প্রায় ৪০টি বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে। এতে এলাকাজুড়ে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিমান হামলার পর থাই বাহিনী কম্বোডিয়ার ভূখণ্ডে আগ্রাসন অব্যাহত রাখে। বোমাবর্ষণের পর পদাতিক সেনা, ট্যাঙ্ক ও সাঁজোয়া যান নিয়ে তারা বসতিপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ করে, যা আন্তর্জাতিক আইন ও সীমান্ত চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
কম্বোডিয়ার জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, গত ৭ ডিসেম্বর থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্তে নতুন করে ছোট অস্ত্রের সংঘর্ষ শুরু হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সংঘর্ষের আগে কয়েকদিন ধরে থাই বাহিনী উস্কানিমূলক তৎপরতা চালায় এবং এক পর্যায়ে কম্বোডিয়ার অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে।
এর আগে ১২ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তিনি থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রীদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, উভয় দেশের নেতা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শত্রুতা বন্ধ করতে এবং শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন পুনরায় শুরু করতে সম্মত হন। তবে সেই ঘোষণার পরও সীমান্তে সহিংসতা ও সামরিক সংঘর্ষ থামেনি।
সীমান্ত পরিস্থিতির অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কম্বোডিয়া সরকার। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যেন এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং দুই দেশের মধ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা হয়।
