Bangla FM
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • বিশ্ব
  • সারাদেশ
  • বিনোদন
  • খেলাধুলা
  • কলাম
  • ভিডিও
  • অর্থনীতি
  • ক্যাম্পাস
  • আইন ও আদালত
  • প্রবাস
  • বিজ্ঞান প্রযুক্তি
  • মতামত
  • লাইফস্টাইল
No Result
View All Result
Bangla FM

আলুর ভালো ফলনেও মুখে হাসি নেই দিনাজপুরের চাষিদের

Taslima TanishabyTaslima Tanisha
৬:১৫ pm ২৫, ডিসেম্বর ২০২৫
in Semi Lead News, সারাদেশ
A A
0

সুলতান মাহমুদ, দিনাজপুর

দিনাজপুরে এ বছর আলুর ফলন ভালো হলেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় চরম সংকটে পড়েছেন চাষিরা। মাঠে আলু উঠলেই খরচের হিসাব মিলিয়ে লোকসানের অঙ্ক সামনে আসছে। ফলে অনেক চাষিই ভয়ে আলু উঠাতে চাইছেন না। উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারদর এতটাই কম যে, আলু তুললেই ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।

দিনাজপুর সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের টিকলির মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সবুজ আলুর ক্ষেত। মাঠে নারী-পুরুষ, কিশোর-কিশোরীসহ নানা বয়সী শ্রমিকরা আলু উত্তোলনের কাজে ব্যস্ত। নতুন ‘সেভেন ক্যারেজ’ জাতের আলু তুলতেই তাদের এই ব্যস্ততা। তবে মাঠে শ্রমিকদের কর্মচাঞ্চল্য থাকলেও কৃষকদের চোখেমুখে নেই স্বস্তি। সারিবদ্ধ ভাবে জমি থেকে আলু তুলছেন। কেউ ধামায় আলু ভর্তি করছেন। আবার কেউ বা ধামা ধরে বস্তা ভর্তি করছেন। আবার কেউ আলুর বস্তার মুখ প্যাকিং করে জমিতে বস্তা দাঁড় করিয়ে রাখছেন। আবার কেউ সেই বস্তা ভ্যান গাড়িতে করে বিক্রির জন্য বাজারে নিয়ে যাচ্ছেন।

চাষিদের অভিযোগ, প্রতি বস্তা আলু তুলতেই খরচ হয়ে যাচ্ছে প্রায় ২০০ টাকা। একটি বস্তার বাজারমূল্য যেখানে ৬০০ থেকে সাড়ে ৬০০ টাকা, সেখানে আলু উত্তোলনে শ্রমিক মজুরি, বস্তা, সুতলি, ও ভ্যানভাড়া মিলিয়ে খরচ পড়ছে প্রায় ২০০ টাকা। ফলে বস্তা প্রতি কৃষকের হাতে থাকছে মাত্র ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা। অথচ এক কেজি আলু উৎপাদনে তাদের খরচ পড়ছে ১৫ থেকে ১৬ টাকা পর্যন্ত, সেখানে মাঠ থেকেই আলু বিক্রি করতে হচ্ছে ৮ থেকে ৯ টাকা কেজি দরে।

শ্রমিক মজুরিও বেড়েছে। চার ঘণ্টার জন্য একজন নারী শ্রমিককে দিতে হচ্ছে ২৫০ টাকা, আট ঘণ্টার জন্য ৫০০ টাকা। পুরুষ শ্রমিকদের ক্ষেত্রে এই মজুরি ৫০০ টাকা বেশি। তরুণ শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া প্রতি বস্তার দাম ৬০ টাকা এবং জমি থেকে বাজারে নিতে ভ্যানভাড়া দিতে হচ্ছে আরও ২০ থেকে ২৫ টাকা। সব মিলিয়ে প্রতি বস্তায় খরচের চাপ বাড়ছেই।

চাষিরা জানান, প্রতি শতক জমিতে আলুর ভালো ফলন হলে ৪ থেকে ৫ বস্তা আলু পাওয়া যাচ্ছে। ফলন সন্তোষজনক হলেও বাজারে দাম না থাকায় লাভের আশা ভেঙে গেছে। অনেকের মতে, এভাবে চলতে থাকলে আগামী মৌসুমে আলু চাষ নিয়ে বড় সিদ্ধান্তহীনতায় পড়তে হবে।

টিকলির মাঠের চাষি রুহুল আমিন জানান, তিনি ৬২ শতক জমিতে আলু আবাদ করেছিলেন। সেখানে তার মোট খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। ফলন পেয়েছেন ৫৫ বস্তা। প্রতিটি বস্তা ৬০০ টাকা দরে বিক্রি করলেও আলু উত্তোলন, শ্রমিক ও পরিবহন খরচ মিলিয়ে আরও ১১ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সব মিলিয়ে তিনি প্রায় ১৩ হাজার টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তার ভাষায়, “এভাবে ক্ষতি হলে আগামী বছর আলু চাষ করা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে যাবে।”

চাষি আইয়ুব আলী বলেন, “প্রতিবছর লাভের আশায় আলু চাষ করি। এ বছর বীজের দাম তুলনামূলক কম হলেও সার, কীটনাশক ও শ্রমিক খরচ বেড়ে গেছে। ৪৮ শতক জমিতে আলু করতে আমাদের ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ফলন ভালো হলেও দাম না থাকায় পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েছি।

আরেক চাষি নুরুজ্জামান জানান, তিনি ১৮ কাঠা জমি এক বছরের জন্য খায়ে খাজনা বাবদ ৫০ হাজার টাকায় নিয়েছিলেন। সেখানে আলু আবাদে আরও ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়। আলু তোলা ও পরিবহন খরচসহ আরও সাত হাজার টাকা যোগ হয়েছে। মাঠ থেকেই ৮ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় তার ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা।

চাষি আরিফ হোসেন বলেন, “আমার এক কাঠা জমিতে চার বস্তা আলু হয়েছে। ফলন ভালো হলেও দাম না থাকায় মনটা ভেঙে গেছে। আমরা চাষিরা কার কাছে অভিযোগ করব? সামনে আলুর আবাদ বাদ দিয়ে পপকর্ন চাষের কথা ভাবছি। যদি সেখানেও লাভ না হয়, তাহলে টিকে থাকা কঠিন হবে।

মোবারক হোসেন বলেন, “বর্তমানে আলুর দাম কম থাকায় ভয়ে আলু তুলতেই পারছি না। এক কেজি আলু উৎপাদনে যেখানে ১৫-১৬ টাকা খরচ, সেখানে বিক্রি করতে হচ্ছে ৯ টাকা থেকে ১০ টাকা কেজি দরে। দাম না বাড়লে আমাদের ক্ষতি আরও বাড়বে।

এ বিষয়ে দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আফজাল হোসেন জানান, এ বছর দিনাজপুরে আগাম জাতের আলুর ব্যাপক উৎপাদন হয়েছে। ফলন ভালো হলেও বাজারে সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কমে গেছে। গত বছর এই নতুন জাতের আলু ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে বাজারে ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সব মিলিয়ে, ভালো ফলনের পরও ন্যায্যমূল্যের অভাবে দিনাজপুরের আলু চাষিরা আজ চরম অনিশ্চয়তার মুখে। দ্রুত বাজার ব্যবস্থাপনা ও সরকারি সহায়তা না এলে এই লোকসান কৃষকদের ভবিষ্যৎ চাষাবাদকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলবে ।

Tags: আলুচরম সংকটচাষিদিনাজপুর
ShareTweetPin

সর্বশেষ সংবাদ

  • ঈদের আনন্দ নয়, বনসংলগ্ন বাওয়ালি পরিবারে নীরব কান্না
  • দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে লঞ্চ ও জাহাজের সংঘর্ষ, আহত ১০
  • পিছিয়ে পড়া মানুষের সাথে আনন্দ ভাগ করে নেওয়াই প্রকৃত ঈদ: ডা. অচিনপুরী
  • কালাইয়ে ৪৮৫ জন পেলেন ঈদ উপহার
  • নরসিংদীর বেদে পল্লী ও অসহায় পরিবারকে ঈদ উপহার দিলেন ড. আবদুল মঈন খান

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুর ইসলাম (রাশেদ মানিক)
নির্বাহী সম্পাদক: মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ

বাংলা এফ এম , বাসা-১৬৪/১, রাস্তা-৩, মোহাম্মদিয়া হাউজিং লিমিটেড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ

ফোন:  +৮৮ ০১৯১৩-৪০৯৬১৬
ইমেইল: banglafm@bangla.fm

  • Disclaimer
  • Privacy
  • Advertisement
  • Contact us

© ২০২৬ বাংলা এফ এম

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • বিশ্ব
  • সারাদেশ
  • বিনোদন
  • খেলাধুলা
  • প্রবাস
  • ভিডিও
  • কলাম
  • অর্থনীতি
  • লাইফস্টাইল
  • ক্যাম্পাস
  • আইন ও আদালত
  • চাকুরি
  • অপরাধ
  • বিজ্ঞান প্রযুক্তি
  • ফটোগ্যালারি
  • ফিচার
  • মতামত
  • শিল্প-সাহিত্য
  • সম্পাদকীয়

© ২০২৬ বাংলা এফ এম