শরিফ ওসমান বিন হাদি হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা এবং বর্তমানে রাজনীতিতে আসা নেতা। তিনি ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রচার শুরু করেছেন।
গত বছর ১৭ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত রাজধানীর রামপুরা ও বাড্ডা এলাকায় ছাত্র-জনতার প্রতিরোধের অন্যতম সমন্বয়ক হিসেবে পরিচিত হাদির রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং বক্তব্যের জন্য তিনি আলোচিত।
শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন হাদি এবং বর্তমানে হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চিকিৎসাধীন।
ব্যক্তিগত জীবন ও শিক্ষা
৩৩ বছর বয়সী ওসমান হাদির জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঝালকাঠিতে। নেছারাবাদ মাদ্রাসা থেকে দাখিল ও আলিম পাশের পর ২০১০-২০১১ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ক্যাম্পাসে তিনি ছাত্রলীগের নিপীড়নবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী হাদির সাহিত্যিক রুচি আছে, তিনি একজন কবিও।
বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করার পর হাদি সাইফুর’স এবং বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পড়িয়েছেন। তিনি রাতের ভোটখ্যাত ২০১৮ সালের নির্বাচন, ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন।
রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড
জুলাই অভ্যুত্থানে তাঁর তুখোড় বক্তব্য সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিতি এনে দেয়। সামাজিক মাধ্যমে তাঁর বক্তব্য ব্যাপক প্রচার পায়।
১৩ আগস্ট ২০২৪ সালে হাদি ইনকিলাব মঞ্চ প্রতিষ্ঠা করেন এবং পরের মাসে গঠিত জাতীয় নাগরিক কমিটিতেও ছিলেন। তবে তিনি এনসিপি-তে যোগ দেননি। তিনি সিদ্ধান্ত নেন, জুলাই অভ্যুত্থানের সমর্থনে কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে ইনকিলাব মঞ্চে নিজেকে পুরোপুরি নিয়োজিত করবেন। সাধারণ মানুষের ক্ষুদ্র চাঁদায় পরিচালিত এ সংগঠন ইনকিলাব পাঠাগার এবং সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে।
ফেব্রুয়ারিতে শেখ হাসিনার বক্তব্যের প্রতিবাদে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় ঘটানো ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সংশ্লিষ্টতার কারণে তিনি সমালোচিত হন। কঠোর ভাষায় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতানেত্রী এবং দলটির সমর্থক বুদ্ধিজীবীদের বিরোধিতা করেন। হাদি নিজে তাঁর গালিগালাজপূর্ণ বক্তব্যকে মুক্তির মহাকাব্য হিসেবে দেখেন।
রাজনৈতিক দর্শন ও লক্ষ্য
হাদি কোনো দলে যোগ না দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার হাড়িখালী গ্রামের মুন্সিবাড়ির মরহুম মাওলানা আব্দুল হাদির ছোট ছেলে, পরিবারে সর্বশেষ সন্তান। তিনি সম্প্রতি পিতৃত্ব অর্জন করেছেন।
হাদির নেতৃত্বাধীন ইনকিলাব মঞ্চের মূল নীতি হলো আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠন, যেখানে গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ ও ন্যায়বিচার প্রধান মূল্যবোধ হবে।
তিনি পুরোনো ধারার রাজনীতির পাশাপাশি বিএনপি-জামায়াতকেও সমালোচনা করেন এবং দৃশ্যমান পরিবর্তনের অভাবের কারণে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকেও সমালোচনা করেন।

