কুইন্টন ডি ককের অসাধারণ ইনিংস এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ভারতকে ৫১ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে প্রোটিয়ারা। তাদের দেওয়া ২১৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ভারত অলআউট হয় ১৬২ রানে। এই জয়ের মধ্য দিয়ে ভারতের বিপক্ষে টি–টোয়েন্টি ইতিহাসে সর্বোচ্চ জয়ের রেকর্ড নিজেদের করে নিল এইডেন মার্করামের দল।
নিউ চন্ডিগড়ের মুল্যানপুর স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত পুরুষদের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচটিই ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ভারতের জন্য হলো হতাশার। সিরিজের প্রথম ম্যাচে ভারত ১৭৬ রানের লক্ষ্য দিয়েও দক্ষিণ আফ্রিকাকে মাত্র ৭৪ রানে গুটিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে ম্যাচের রঙ পাল্টে দিল প্রোটিয়ারা।
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ২১৩ রান তোলে দক্ষিণ আফ্রিকা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে আসা কুইন্টন ডি কক শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন। তার সঙ্গী রেজা হেনড্রিকস ১০ বলে ৮ রান করে ভরুণ চক্রবর্তীর বলে বোল্ড হন। এরপর অধিনায়ক মার্করামের সঙ্গে ৮৩ রানের পার্টনারশিপ গড়ে দলের ভিত শক্ত করেন ডি কক। সেঞ্চুরি ছুঁইছুঁই করতে করতে ৯০ রানে রান আউট হন তিনি। ৪৬ বলের বিস্ফোরক ইনিংসে ছিল ৫ চার ও ৭ ছক্কা।
শেষ দিকে ডেভিড মিলার (১২ বলে ২০) ও দোনোভান পেরেইরা (১৬ বলে ৩০) দ্রুত রান তুলে দলের স্কোর ২০০ পেরিয়ে নিতে সাহায্য করেন। ভারতের হয়ে ভরুণ চক্রবর্তী দুটি ও অক্ষর প্যাটেল একটি উইকেট নেন।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে ভারত শুরুতেই ধাক্কা খায়—প্রথম ওভারেই শুভমান গিল গোল্ডেন ডাক। এরপর দ্রুতই আউট হন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব (৫) এবং অক্ষর প্যাটেল (২১)। কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন তিলক ভার্মা—৩৪ বলে ৬২ রান করেন তিনি, যার মধ্যে ছিল ২ চার ও ৫ ছক্কা। জিতেশ শর্মা (২৭), হার্দিক পান্ডিয়া (২০) রান করেন ঠিকই, কিন্তু দলকে লড়াইয়ে ফেরাতে পারেননি।
দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে বল হাতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন ওটনিয়েল বার্টম্যান—মাত্র ২৪ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করেন তিনি। লুঙ্গি এনগিডি, মার্কো জানসেন ও লুথো সিপামলা নেন ২টি করে উইকেট।
ভারতের বিপক্ষে এর আগে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে ১২টি জয় ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার। এবার ১৩তম জয় তুলে নিয়ে এককভাবে এগিয়ে গেল প্রোটিয়ারা। সিরিজের তৃতীয় ম্যাচ মাঠে গড়াবে ১৪ ডিসেম্বর, ধর্মশালায়।

