মীর ইমরান, মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি:
মাদারীপুরের শিবচরের ১০০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দিন দিন বাড়ছে জনবল সংকট ও অব্যবস্থাপনা। আধুনিক চিকিৎসা সেবা দেওয়ার কথা থাকলেও হাসপাতালটি এখন নানামুখী সমস্যায় জর্জরিত। প্রয়োজনীয় ডাক্তার, নার্স, ওয়ার্ড-বয়, সুইপার, নাইট গার্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে জনবল না থাকায় রোগীদের প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শেষ নেই।
হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. ফাতেমা মেহজাবীন জানান, “জনবল সংকটের কারণে স্বাস্থ্যসেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী না থাকায় হাসপাতালের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
“প্রতিদিনই ভোগান্তিতে রোগীরা”
দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা জানান, হাসপাতালে ঢুকলেই নোংরা পরিবেশ চোখে পড়ে। অনেক সময় ময়লা পরিষ্কারের লোক না থাকায় ওয়ার্ড, বাথরুম, করিডোর-সব জায়গায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হয়।
রাতের বেলা দায়িত্বে লোক না থাকায় চুরি-ছিনতাইয়ের মতো ঘটনাও ঘটছে। বাথরুমের কল খুলে নিয়ে যাওয়া,পানির লাইন নষ্ট করে ফেলা নিয়মিত ঘটনা হয়ে পরেছে।
“লিফট-নির্ভর হাসপাতাল, কিন্তু বিদ্যুৎ গেলে চরম বিপদ”
হাসপাতালটি তিন থেকে ছয় তলা পর্যন্ত বিস্তৃত, আর বেডগুলোও বিভিন্ন তলায় ছড়ানো। সিঁড়ি থাকলেও লিফটই রোগী স্থানান্তরের প্রধান মাধ্যম। কিন্তু নিয়মিত বিদ্যুৎ চলে গেলে লিফটে আটকে পড়েন রোগী ও স্বজনরা।
এমন পরিস্থিতিতে জরুরি সেবা ব্যাহত হয়।
হাসপাতালটির জন্য প্রয়োজনীয় জেনারেটর থাকার কথা থাকলেও তা নেই বললেই চলে। ফলে বিদ্যুৎ গেলেই পুরো হাসপাতাল অচল হয়ে পড়ে।
“পানি ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সংকট”
হাসপাতালের করিডোর, জরুরি বিভাগ, ওয়ার্ড-সব জায়গায়ই পানি ঝরানো কাঁদা পায়ের মাধ্যমে ছোড়াছুড়ি হয় ।এতে পানি সরবরাহ স্বল্পতা দেখা যায়। পানির অভাবে ধুলোবালু জমে যায়, বেডের নিচেও নোংরা স্তূপ জমে থাকে।
সেবা নিতে আসা রোগীদের অভিযোগ,“পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নেই, বাথরুম ব্যবহার করার অন উপযোগী হয়ে পরেছে। হাসপাতালে এসেই আমাদের আরো কষ্ট ভোগ করতে হয়।”
‘সরকারি বরাদ্দের অভাবও বড় সমস্যা’
হাসপাতালটিতে লাইট, সিসি ক্যামেরা, পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম, এমনকি মৌলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও না থাকায় অস্বস্তিতে রোগী ও কর্মরত হাসপাতালে ষ্টাফরা। অনেক দিন ধরে নানা সমস্যা থাকলেও উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি।
স্থানীয়রা মনে করেন, শিবচরের মতো জনবহুল উপজেলায় ১০০ শয্যার হাসপাতাল পরিচালনায় অতিরিক্ত জনবলসহ আধুনিক প্রযুক্তি জরুরি। কিন্তু বাস্তবে হাসপাতালটি চলছে প্রয়োজনর তুলনায় অনেক কম জনবল নিয়ে।
দ্রুত পদক্ষেপের দাবি ,স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ, রোগী-সবাই দ্রুত হাসপাতালের উন্নয়নে সরকারি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তাদের মতে,পর্যাপ্ত ডাক্তার ও নার্স নিয়োগ,সুইপার, ওয়ার্ড বয়, নাইট গার্ডসহ সহায়ক কর্মী বাড়ানো। জরুরি ভিত্তিতে জেনারেটর স্থাপন,পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত
,নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার,এসব না হলে এ হাসপাতালে জনগণের কষ্ট আরও বাড়বে।

