দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুর-৫ (পার্বতীপুর–ফুলবাড়ী) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পার্বতীপুর।
ব্যারিস্টার এ কে এম কামরুজ্জামানকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করার প্রতিবাদে রাস্তা অবরোধ, অগ্নিসংযোগ ও বিক্ষোভ মিছিল করেন বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে পার্বতীপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল চত্বরে বিএনপি’র নেতাকর্মীরা বিক্ষোভে জড়ো হন। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে তারা চৌরাস্তা মোড়ে গিয়ে সড়কে বাঁশ ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করেন। একপর্যায়ে টায়ারে আগুন ধরিয়ে দেন, ফলে সৈয়দপুর, দিনাজপুর, ফুলবাড়ী ও রংপুরগামী পরিবহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। আটকে পড়ে শত শত যানবাহন। বন্ধ হয়ে যায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের পার্বতীপুর ডিপো থেকে উত্তরের আট জেলায় তেল সরবরাহও।
নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, “প্রবাসে থাকা একজন ব্যারিস্টারকে হঠাৎ মনোনয়ন দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তিনি এলাকার নেতা নন। এলাকার মানুষ তাকে তো চেনে না। দীর্ঘদিন লন্ডনে থেকে লন্ডন বিএনপির নাকি তিনি সহ-সভাপতি। তিনি লন্ডন বিএনপি’র সহ-সভাপতি তাহলে সেখানেই তিনি রাজনীতি করবেন এ দেশে নয়। আমরা তাকে কোনভাবেই এই আসনের প্রার্থী হিসেবে মেনে নেব না। আমরা দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত প্রবীণ নেতা, সাবেক এমপি এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এ জেড এম রেজওয়ানুল হককে প্রার্থী হিসেবে চাই।

জানা যায়, বিএনপি প্রথম দফায় ২৩৭টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করলেও দিনাজপুর-৫ আসনটি স্থগিত রাখা হয়েছিল। দ্বিতীয় দফায় ৪ ডিসেম্বর ব্যারিস্টার কামরুজ্জামানের নাম ঘোষণার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কর্মী–সমর্থকরা সমাবেশ, মানববন্ধন, বিক্ষোভ, প্রতিবাদ সভা ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছেন।
গত বুধবার রাত থেকেই পুরো উপজেলায় মাইকিং করে বিএনপির পক্ষ থেকে সকাল-সন্ধ্যা অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সকালে নতুন বাজারের কাপড় মার্কেট, স্বর্ণপট্টি, মনিহারিপট্টিসহ অধিকাংশ ব্যবসায়ী দোকানপাট বন্ধ রেখে আন্দোলনে সমর্থন জানান।
অবরোধ চলাকালে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল গোলচত্বরে টায়ারে আগুন জ্বালানো হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদ্দাম হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বেলা ১২টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
মনোনয়ন পরিবর্তন না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আকরাম হোসেন মাস্টার, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক ও পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র জাহাঙ্গীর আলম, পৌর বিএনপির সভাপতি আতিয়ার রহমান, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মঞ্জুরুল আজিজ পলাশ, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক রবিউল ইসলাম বাবু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব শরিফুল ইসলাম বাবুসহ অন্যান্য নেতারা।
বিক্ষোভকারীরা ঘোষণা দেন—ব্যারিস্টার কামরুজ্জামানের মনোনয়ন বাতিল করে দ্রুত এ জেড এম রেজওয়ানুল হককে প্রার্থী না করা হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হবে।


