পূর্বাচলের নতুন শহর প্রকল্পে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহেনা এবং তার ভাগ্নি ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণা হবে আগামী সোমবার (১ ডিসেম্বর)। এই মামলার রায়ের দিকে এখন নজর দেশি-বিদেশি মহলের।
মামলার অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্রিটেনের লেবার পার্টির এমপি ও সাবেক সিটি মিনিস্টার টিউলিপ সিদ্দিকের সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে ৪৩ বছর বয়সী টিউলিপের বিরুদ্ধে অভিযোগ—তিনি শেখ হাসিনার প্রভাব ব্যবহার করে পরিবারের সদস্যদের জন্য প্লট বরাদ্দ পাইয়ে দিয়েছেন। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে তার মা, ভাই ও বোনের নাম।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম ডেইলি মেইল রোববার (৩০ নভেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যদি টিউলিপ দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে দীর্ঘমেয়াদি সাজা পান, তবে তাকে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য পদ ছাড়তে চাপের মুখে পড়তে হতে পারে। যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নৈতিকতা ও আচরণবিধি অনুসারে গুরুতর দুর্নীতির দায়ে অপরাধী প্রমাণিত হলে এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন নিয়ে বড় বাধার মুখে পড়তে হয়।
এর আগেও টিউলিপ বিতর্কের কেন্দ্রে ছিলেন। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প থেকে প্রায় ৪ বিলিয়ন পাউন্ড আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। তখনও ব্যাপক রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি সিটি মিনিস্টারের পদ ছাড়েননি।
রূপপুর প্রকল্প সংক্রান্ত অভিযোগের মধ্যেই সামনে আসে যুক্তরাজ্যে একটি ফ্ল্যাট নিয়ে তার দেওয়া বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক। টিউলিপ দাবি করেছিলেন, ফ্ল্যাটটি তিনি বাবা-মায়ের কাছ থেকে উপহার হিসেবে পেয়েছেন। কিন্তু অনুসন্ধানে জানা যায়, আসলে এক আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী ওই ফ্ল্যাটটি তাকে উপহার দেন। বিরোধীরা দাবি তোলে, সেটি ছিল ঘুষের বিনিময়ে দেওয়া সুবিধা।
তবে বিষয়টি নিয়ে ব্রিটিশ সরকারের অভ্যন্তরীণ তদন্তে বলা হয়, টিউলিপ ফ্ল্যাট সংক্রান্ত তথ্য উপস্থাপনে ভুল বক্তব্য দিলেও মন্ত্রীসভার আচরণবিধির কোনো বিধি তিনি লঙ্ঘন করেননি, তাই তার বিরুদ্ধে তখন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এদিকে বাংলাদেশে দায়ের করা মামলার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন একাধিক ব্রিটিশ আইনজীবী। তাদের অভিযোগ, প্রক্রিয়াটি ন্যায়সংগত ও স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। বিষয়টি তুলে ধরে তারা বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্য হাইকমিশনারের কাছে একটি চিঠিও পাঠিয়েছেন।
তবে টিউলিপ সিদ্দিক নিজে এখন পর্যন্ত মামলা কিংবা আইনজীবীদের এই চিঠি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি বলে জানিয়েছে ডেইলি মেইল।
বাংলাদেশের আদালতের রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই এই ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

